ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

এনসিটি ও সিসিটি বিষয়ে স্কপের বিবৃতি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে এ সংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে শ্রমিককর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজি আনোয়ারুল হক হুনি, বিএমএসএফ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার, বিএলএফ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি রবিউল হক শিমুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির এবং বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহীন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও বৈঠক করছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দুটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার পরিপন্থী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের জনগণের অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে লাভজনক ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব টার্মিনালে নতুন করে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের যুক্তিতে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা দাবি করেন, দেশের নিজস্ব জনবল, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব টার্মিনাল সফলভাবে পরিচালনার সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ বন্দরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও অবকাঠামোর ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রবণতা রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জনগণ, শ্রমিক সংগঠন, বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী মহল এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনগণের সম্পদ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জাতীয় সংসদ, বিশেষজ্ঞ মহল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতীত সরকারের আমলে গৃহীত জনস্বার্থবিরোধী বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশপ্রেমিক শ্রমিকজনতা তা মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো চুক্তি বা উদ্যোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

স্কপ নেতারা অবিলম্বে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা সংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধ, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জনসম্মুখে প্রকাশ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বে রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী আটক
পরবর্তী নিবন্ধবিশেষ নিলামে তোলা হয়েছে ফ্রেব্রিক্সসহ ৩৭ লট পণ্য