একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, বাবা হলেন নিঃশব্দে সব কষ্ট সহ্য করার মানুষ। বাবা মানেই শক্তির উৎস, সাহসের নাম। সুতরাং বাবাকে আমরা শুধু বাবা দিবসে যেন বাবাকে স্মরণ না করি। বাবা আমাদের অন্তরে থাকবে।
গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর প্রেস ক্লাবের কর্ণফুলী হলে বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গর্বিত পিতাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দি চিটাগং ট্রাস্ট–বাংলাদেশ (সিটিবি) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানে ২৪ জন গর্বিত পিতাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এম এ মালেক বলেন, আসলে বাবা দিবসের প্রয়োজন কেন? বর্তমানে আমরা সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। আমরা নিজেদেরকে নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত। একটা বিষয় চিন্তা করুন, একটা সিংহ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন সে সিংহ হয়ে জন্ম নেয়। তার বাচ্চাদেরকে বলে দিতে হয় না, তাকে জীবনে কি করতে হবে। কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে, কিভাবে শিকার করতে হবে। একটা কুমিরকে বলতে হয় না, তার বাচ্চাকে কিভাবে সাঁতার শিখবে। কিন্তু মানুষ একমাত্র প্রাণী, যাকে জন্মের পর থেকেই তাকে মানুষ হতে হয়। নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। এই হলো মানুষ এবং জন্তুর মধ্যে পার্থক্য।
দৈনিক আজাদী সম্পাদক আরো বলেন, আসলে পৃথিবীতে বাবা ও মায়ের মতো কেউ নেই। বাবা দুই অক্ষরের এই শব্দ মিশে আছে কত শত ভালোবাসা। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ, বাবা মানে আশ্রয়স্থল, বাবা মানে এই পৃথিবীর ছাদ। বাবা–মা দুজনই বটবৃক্ষ। আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি মাত্র বাইশ বছর বয়সে। বুঝতেই পারছেন, আমার বয়স এখন ৮৬ বছর। আমার বাবার নাম আপনারা অনেকেই নাম শুনেছেন। আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার। উনি এই অঞ্চলে প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার। আমি তার আগেও খবর নিয়েছি, এখানে এই অঞ্চলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা এবং অন্যকোন সমপ্রদায়ের মধ্যেও আমি কারো নাম আমি খুঁজে পাইনি। ওনি সমগ্র অবিভক্ত বেঙ্গলের প্রথম মুসলমান ইঞ্জিনিয়ার। আমি নিজেও গর্বিত, আমার বাবার জন্য গর্বিত।
আজাদী সম্পাদক বলেন, বাবা মাকে আমরা সম্মান যদি না করি, তাহলে নিজেকেই অসম্মান করা হবে। আমরা সকলে মিলেমিশে, সকলেই বাবা–মাকে সম্মান করব এবং এই পৃথিবীটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করব। আসলে, ওই যে একটু আগে বললাম, মানুষকে মানুষ হতে হয়। অন্য কোনো প্রাণীকে মানুষ হতে হয় না। আমরা একজন ভালো মানুষ হিসেবে, যদি আমাদের পৃথিবীতে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি। তবে অন্তত মারা যাওয়ার পরে আমার পাড়ার প্রতিবেশীরা বলবে এই লোকটা ভালো ছিল।
উদ্বোধকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন বাবার অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু তার উপস্থিতি অনুভূত হয় প্রতিটি পদক্ষেপে। সন্তানের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বপ্নপূরণ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পেছনে যে মানুষটি নীরবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন, তিনি বাবা। বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না কথায়, বরং তা ফুটে ওঠে তার দায়িত্বশীল আচরণ, পরিশ্রম এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমে। সন্তানের প্রয়োজন পূরণে নিরলস চেষ্টা, সমস্যার সময় পাশে দাঁড়ানো কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পথনির্দেশনা সবকিছুতেই বাবার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি প্রত্যেক মা–বাবাকে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার আহবান জানান।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অরুন কান্তি মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী। মুখ্য আলোচক ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শিল্পপতি বাবুল ঘোষ বাবুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনোজ কুমার দেব, কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয় লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসুদেব সিংহ, ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের মহাসচিব প্রবাল দে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পরিষদের আহবায়ক রতন কান্তি দে ও সদস্য সচিব জিকু দত্ত। ট্রাস্টের শিক্ষা সচিব অধ্যক্ষ অনুপ চক্রবর্তী ও আইন সচিব অ্যাড. তৃষ্ণা ভট্টাচার্য্যরে যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর সুসেন কুমার বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন ঊষা আচার্য্য, রূপনা চৌধুরী (রুপা), শ্যামল বিশ্বাস, ঋষি পালিত, মিরাজ দাশ (জয়), মৃত্তিকা চৌধুরী, স্মৃতি দে, আদৃতা বৈদ্য, অমৃতা মল্লিক, অংকিতা চক্রবর্তী, অনুশ্রী দত্ত, জয়ীতা বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস, কাঞ্চন গুপ্ত। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন সিটিবি কালচারাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা।











