বৃষ্টির সাথে সই পাতি কদমের সুবাসে

হৈমন্তী তালুকদার | সোমবার , ২২ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

আষাঢ়ের বরষায় কদম ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা আমি, হঠাৎ ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন আমি। শীতল এক হাওয়ায় আমি যেন হারিয়ে যাচ্ছি গভীর নিদ্রায়। আমি সেই সবুজ পাহাড়ের বুকে ঘুরছি আপন মনে, রিনিঝিনি বৃষ্টির শব্দে খালি পায়ে নুপুর পড়ে আমাদের বারান্দার সামনে ইটের রাস্তাটায় পা ভিজিয়ে হাঁটছি আর গুনগুন করে গান গাইছিঘন ঘোর বরিষণে মেঘ ডুমুর বাজে। এমন সময় হঠাৎ কটকটে গোমড়া মুখো বজ্রপাত এলো! মনে হলো আমার আনন্দে তার বড্ড হিংসে হচ্ছে। এক দৌড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। টিনের চালের রিনিঝিনি শব্দে হাত বাড়িয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির শীতল জলগুলো আমার আঙুলের সাথে সই পাতাচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য আমি সেই দুরন্ত কিন্তু শান্ত সেই কিশোরী মেয়ে হয়ে উঠেছি। নারিকেল পাতার ঝিরিঝিরি নাচনে বাতাসের ফিসফিস আলাপনে আমি কান পেতে শুনছি তাদের গোপন আলাপন। মাটির চুলার লাকড়ি আর নারিকেল পাতার পোড়ানো গন্ধ পাচ্ছি সেই সাথে পাঁচফোড়নে বিশেষ কোন মুখরোচক রান্নার সুবাস এসে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে রাঁধুনীর পাকা হাতের প্রশংসায়। ভেজা চুল গামছায় মুছতে মুছতে আবারও আমি ঝুলন্ত টবগুলোর পাতাবাহারে মনের খেয়ালে হারিয়ে যাচ্ছি। একটু পরে বৃষ্টির গতি কমে এলো, চারিদিকে শান্ত এক প্রকৃতি যেন তার সকল ক্লান্তি ছেড়ে দিয়েছে এই বসুন্ধরায়।

টিনের চালা দিয়ে এখনো এক দুফোঁটা বৃষ্টি টুপটাপ করে পড়ছে। আমি এক মগ গরম কড়া চা হাতে বৃষ্টিবিলাসে ভেজা মাটির সুবাসে কদম ফুলের সৌন্দর্যে আবারও তাকিয়ে রইলাম আকাশের দিকে। আর বললাম যদি ইচ্ছে হলেই বৃষ্টির হাত ধরে ঠিক এইভাবেই শৈশবে কৈশোরে হারিয়ে যাওয়া যায় মন্দ কী! আমি বৃষ্টি বিলাসী কন্যা হয়ে কিছু সময় না হয় আপন মনে সেই কিশোরী মেয়ের মতোই আমার আপন ভুবনে ঘুরে বেড়াবো।

জীবনের ফেলে আসা মুহূর্তগুলো আমরা কখনো উপলব্ধি করি না যেখানে পরম শান্তি লুকিয়ে থাকে ঝিনুকের খোলসে মুক্তার মতোই। মাঝেমধ্যে এইভাবে চুপিচুপি সেই ঝিনুকের খোলসে মুক্তো খুঁজে না হয় জীবন গড়ি। চোখ খুলে দেখি আমার সেই চেনা আকাশটা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে কিন্তু এক তৃপ্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আমি ব্যস্ত শহরের আকাশটাকে বললাম, তোমার সাথে সই পাতাই বৃষ্টির ভালোবাসায় আমার চেনা আকাশটার খোঁজে বুঝলে! বৃষ্টির ভালোবাসায় সই পাতাই কদমের সুবাসে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখুঁজি
পরবর্তী নিবন্ধআদর্শ সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা