নেদারল্যান্ডসের এই খেলাটা দেখতেই অভ্যস্ত সকলে। কমলা ঝড় উঠবে সবুজ মাঠে। গতিময় ফুটবলে দিশেহারা হয়ে পড়বে প্রতিপক্ষ। কিন্তু আগের ম্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে তাদের এই খেলাটা দেখা যায়নি। ফলে পয়েন্ট নষ্ট করতে হয়েছিল। কিন্তু সুইডেনের বিরুদ্ধে খোলস ছেড়ে বের হলো নেদারল্যান্ডস। সুইডেনও ভাবেনি, এ ভাবে শুরু থেকে আক্রমণ মোকাবেলা করতে হবে।। সুইডেনকে ৫–১ গোলে হারাল ডাচ ব্রিগেড। ঘটনাচক্রে আগের ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫ গোল দিয়েছিল সুইডেন। পাঁচ দিন পর সেই ৫ গোল তারাই খেল।
হিউস্টনের দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে দুটি করে গোল করলেন ব্রায়ান ব্রবি ও কোডি গাকপো। গতকাল শনিবারের ম্যাচটি ৫–১ গোলে জিতে, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার পথে এগিয়ে রইল রোনাল্ড কুমানের দল। তাদের আরেক গোলদাতা সামারভিল। দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল নেদারল্যান্ডস। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সুইডেন। ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে জাপান, তিউনিশিয়া এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। এই দুই দল অবশ্য একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে। ম্যাচে দারুণ সব আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়ায় সুইডেনও, তবে আগের ম্যাচের মতো ফিনিশিংয়ে কার্যকর হতে পারল না তারা। পজেশন রাখায় দুই দলই ছিল সমানে–সমান। আক্রমণ যদিও বেশি করে সুইডেন, গোলে শটও তারা নেয় বেশি। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার ভিড়ে আসল কাজটা করেছে নেদারল্যান্ডস। গোলের জন্য ১৬ শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইডেন। আর সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা ১০ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
সুইডিশদের দারুণ সব শট দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার আরেক ডাচ নায়ক বার্ট ভেরব্রুহেন।আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারা ডাচরা এদিন শুরুটা করে দুর্দান্ত। ব্রবির নৈপুণ্যে প্রথম কুলিং ব্রেকের আগেই দুই গোলে এগিয়ে যায় তারা।
প্রথম গোলের দেখা মেলে পঞ্চম মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কোডি গাকপো বল বাড়ান ছয় গজ বঙে, আর প্রতিপক্ষের দুই জনের মাঝ দিয়ে ছুটে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন সান্ডারল্যান্ড ফরোয়ার্ড ব্রবি। চলতে থাকে আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণ, এর মাঝেই ১৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় বিশ্বকাপে তিনবারের রানার্সআপরা। দুই গোল হজমের পর, আক্রমণে জোর দেয় সুইডেন। তৈরি করতে থাকে একের পর এক সুযোগ। দারুণ কয়েকটি সেভ করে ব্যবধান ধরে রাখেন ভেরব্রুহেন।
অনেক সুযোগ হারানোর মাঝে ৪৫তম মিনিটে একবার জালে বল পাঠাতে পারে সুইডিশরা; কিন্তু অফসাইডে ছিলেন কয়েকজন। মাঝের বিরতির পরপর দ্রুত আরও দুটি গোল করে জয়ের পথে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।
৪৭তম মিনিটের এই গোলটিও প্রায় একই ধরনের। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ডি–বঙে ঢুকে, ডান দিক থেকে দূরের পোস্টে পাস বাড়ান ইন্টার মিলানের রাইট–ব্যাক ডামফ্রিস, আর ছোট্ট বাকি কাজ সারেন গাকপো। তৃতীয় গোল হজমের পর ক্ষণিকের জন্য যেন কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে সুইডেন, আর তখনই চার নম্বর গোলটি করে ডাচরা। প্রতিপক্ষের আরেকটি ব্যর্থ আক্রমণ রুখে পাল্টা আক্রমণ শাণায় তারা। সামারভিলের পাস ধরে ডি–বঙে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে চতুর্থ গোলটি করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড গাকপো।
পরের মিনিটেই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন সুইডেন কোচ এবং মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমান এলাঙ্গা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি নামার পর থেকে দারুণ খেলেন সামারভিল। শেষ দিকে এসে পেয়ে যান গোলও। আরেক বদলি ফরোয়ার্ড মেমফিস ডিপাইয়ের পাস পেয়ে গোলটি করেন ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার।












