চট্টগ্রামকে আরও নান্দনিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা কালুরঘাট–চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্প এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
দিনের শুরুতে সিডিএ চেয়ারম্যান বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন হিজড়া খালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রবর্তক সেতু, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা এবং আশপাশের এলাকার খালের অসম্পন্ন অংশ ও বিভিন্ন ‘বটলনেক’ চিহ্নিত স্থান ঘুরে দেখেন। পরে চাক্তাই এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে নির্মিত স্লুইচগেটগুলোও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সবুজ প্রকৃতি, খাল, নদী, সাগর, পাহাড় ও সমতলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৈচিত্র্যময় শহর। এ শহরকে আরও নান্দনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আমি কাজ করে যেতে চাই।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নকালে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে সিডিএ চেয়ারম্যান কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর নির্মাণাধীন কালুরঘাট–চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখে তিনি কর্ণফুলী নদীর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও পরিদর্শন করেন।
এরপর তিনি শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের বিভিন্ন র্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখেন। আগ্রাবাদ ডেবারপাড় র্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা অধিগ্রহণ এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সমন্বয় কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ বেতার, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও যমুনা অয়েল কোম্পানি উল্লেখযোগ্য।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে এঙপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায় টোল আদায় কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক সরকারি দপ্তরের যানবাহন নিয়মিত টোল প্রদান করে না। এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি নিজেও টোল দিয়ে এসেছি। সবাইকে অনুরোধ করব, নিয়ম মেনে টোল প্রদান করে এই উড়ালসড়ক ব্যবহার করতে।
পরিদর্শনকালে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনউদ্দিন, এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান এবং কালুরঘাট–চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।












