অর্থাভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে পারেননি ভোজিনিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ at ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

স্পেন ম্যাচের পর কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়ার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে তার ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩০ লাখ বেড়েছে। ৯০ মিনিটের একটা ম্যাচ বদলে দিয়েছে সব কিছু। ইউরোপ সেরা স্পেনকে প্রায় একার হাতে রুখে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া। ৪০ বছরের গোলরক্ষককে নিয়ে খোঁজ শুরু হয়ে যায় ফুটবল বিশ্বে। অন্তত সাত বার দলের নিশ্চিত পতন রুখে দেওয়া ভোজিনিয়া প্রথম বার বিশ্বকাপ খেললেও তার মন ভাল নেই। ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সফল হলেও মায়ের আশা পূরণ করতে পারেননি ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপ দেখতে আসার ইচ্ছা ছিল তার মায়ের। পরিবারের আরও কয়েক জন গ্যালারিতে বসে তার খেলা দেখতে চেয়েছিলেন। পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলা গোলরক্ষক কারও আশা পূর্ণ করতে পারেননি। কারণ আমেরিকার ভিসা নীতি এবং টাকার অভাব। স্পেনের বিরুদ্ধে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে তাই কেঁদে ফেলেন। সেই কান্নায় মিশে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস, আক্ষেপ এবং হতাশা। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচের পর ভোজিনিয়া বলেছেন, ‘ম্যাচের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ছোট থেকে দাদাদাদুর কাছে বড় হয়েছি। আমাকে সব সময় আগলে রাখতেন তারা। অথচ এমন একটা মুহূর্তে তারা আমার সঙ্গে নেই। মাও আসতে পারেনি ভিসা সমস্যার জন্য। সকলের ভিসার জন্য যে টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অত টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি।’ সোমবার পর্যন্ত কেপ ভার্দের ফুটবলপ্রেমীরা ছাড়া যাঁর নাম তেমন কেউ জানতেন না, তিনিই রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। কেপ ভার্দের মিন্ডেলোয় জন্ম নেওয়া ফুটবলার প্রথম থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, এক দিন বিশ্বকাপ খেলবেন। ভাবেননি কখনও স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। ফুটবলজীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে বিশ্বকাপে অভিষেক অখ্যাত দেশের অখ্যাত ফুটবলারের। মলডোভা, রোমানিয়া, সাইপ্রাস, পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ২০১২ সাল থেকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নায়ক। ফিফা তাকেই দিয়েছে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার। গোটা ম্যাচে এক বার পরাস্ত হয়েছেন। ফেরান টোরেসের একটি শট বারে লেগেছে। এটা ছাড়া অপ্রতিরোধ্য ছিলেন গোটা ম্যাচে। বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে তার। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৪৫ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি। দেশের হয়ে ৯০টি ম্যাচ খেলা ভোজিনিয়া থাকলেন তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধওয়ানডে সিরিজ জয় টি-টোয়োন্টিতে আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে লিটনদের
পরবর্তী নিবন্ধসমানে সমান নিউজিল্যান্ড-ইরান