নগর ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৬ জুন, ২০২৬ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নগরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেমের জন্য ডিপিপিও প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেজন্যও একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার টাইগারপাস চসিকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র। সভায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নগরের প্রস্তুতকৃত দুটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এজন্য আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সিস্টেম সম্পূর্ণ এআইভিত্তিক। কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে। যানবাহনের নম্বরপ্লেট, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আমরা শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, একটি নিরাপদ নগরী গড়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছি। সে কারণেই দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা। তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে সড়কবাতির সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক নগর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মেয়র বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ প্রতিবন্ধকতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগও থাকবে। ফলে নগর ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট সড়কবাতি স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, প্রকল্প দুটির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। তাদের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। এটি এখনো প্রাথমিক ডিপিপি। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে আমরা আরও পরিমার্জন করবো। তবে আমি বিশ্বাস করি, স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম এবং স্মার্ট নিরাপত্তা অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসী একটি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগরী উপহার পাবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত তৈয়ব, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু পুরকৌশলগত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লেন মার্কিং, আইল্যান্ড ঠিক করতে হবে। ইন্টারনেটের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মূল্যবান ক্যামেরা, ক্যাবল, যন্ত্রপাতি যাতে চুরি না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রকল্পের বিষয়ে পুলিশ এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার পরামর্শ গ্রহণ করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী উপকৃত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল
পরবর্তী নিবন্ধজনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী