খেলা শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ফুটবলের সেই চেনা উন্মাদনার জোয়ার এসে লেগেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতেও। এখানে ৩০০ ফুট লম্বা পতাকা বানিয়ে পুনরায় চমক সৃষ্টি করেছেন মো. সেকান্দর বাদশা নামে এক প্রান্তিক কৃষক। তিনি আর্জেন্টিনার একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।
নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে এবারও প্রায় ৩৪ হাজার টাকা খরচ করে উপজেলার শিলক ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কুদ্দুস মার্কেট এলাকায় সড়কের পাশে এই বিশাল পতাকাটি উত্তোলন করেছেন তিনি। পতাকাজুড়ে স্থান পেয়েছে মেসিসহ আর্জেন্টাইন তারকাদের ছবি। তবে ভিনদেশি দলের প্রতি আবেগ থাকলেও নিজ দেশের প্রতি অকৃত্রিম সম্মান প্রদর্শন করেছেন সেকান্দর বাদশা, পতাকাজুড়ে বরাবরের মতোই শোভা পাচ্ছে লাল–সবুজের বাংলাদেশের পতাকা।
শুধু পতাকা উত্তোলনই নয়, এবারের ফুটবল উন্মাদনাকে আরও রঙিন করতে নিজের পকেট থেকে আরও ৭ হাজার টাকা খরচ করে স্থানীয় আর্জেন্টিনা ভক্ত যুবকদের জার্সি কিনে দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থাও করছেন এই ক্রীড়ানুরাগী। পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুদ্দুস মার্কেট এলাকায় ঢাকঢোল পিটিয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে সেকান্দর বাদশার উদ্যোগে একটি ‘আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল’ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ব্রাজিল সমর্থকদের ৩–০ গোলে হারিয়ে জয় উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা দল। সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
কথা হয় পতাকার মূল উদ্যোক্তা মো. সেকান্দর বাদশার সাথে। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনা দলের অন্ধভক্ত। ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও আমি একইভাবে ৩০০ ফুটের পতাকা টাঙিয়েছিলাম। দিনমজুরি ও কৃষি কাজ করে, নিজের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে টাকা জমিয়ে আমি এবারও এই আয়োজন করেছি। প্রিয় দলের প্রতি এই ভালোবাসা আমার হৃদয়ের। আশা করি আর্জেন্টিনা সবসময় আমাদের এভাবে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেবে।
সেকান্দর বাদশার এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘অহেতুক বিলাসিতা’ বলে মন্তব্য করলেও এলাকার সিংহভাগ মানুষই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, সেকান্দর বাদশার এই ফুটবলপ্রেম তরুণ সমাজকে মাদক ও খারাপ আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠের ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতি ধাবিত করবে।
এদিকে শিলক এলাকায় শুধু সেকান্দর বাদশাই নন, প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার একাধিক ভক্ত একক ও সম্মিলিতভাবে আরও বেশ কিছু পতাকা উত্তোলন করেছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার অলিগলি পর্যন্ত চলছে পক্ষে–বিপক্ষের জমজমাট বাকযুদ্ধ। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকলে সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেই মেতে উঠেছেন এই ফুটবল উন্মাদনায়।
স্থানীয় আলী নূর তালুকদার মনি জানান, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপেও দিনমজুরির টাকা জমিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি, এবারও প্রিয় দলের প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে পতাকা উত্তোলন করেছেন। আলী নূর ছাড়াও এই এলাকায় ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার আরও একাধিক পতাকা উঠেছে। আবার সকলে মিলে একসাথে খেলা দেখা এবং খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবে মেতে উঠেন।












