জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের যেসব সদস্য কাজে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদানের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যাদের কথা আপনারা ইশারা–ইংগিতে বলছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। সেগুলো চলমান রয়েছে, কারোটা হয়তো শেষের পর্যায়ে রয়েছে।’ মন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিভাগীয় মামলায় কী হয় দেখে আমরা সে ব্যবস্থাটা বলতে পারব; এখনো কোনোটার কার্যক্রম শেষ হয়নি, শেষের দিকে আছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আইসিটিতে মামলা আছে, পেনাল কোর্টে মামলা আছে; যে মামলাগুলোতে তারা আইন মাফিক বিচারের সম্মুখীন হবেন, সেটা আদালত দেখবে।’
তিন ঘটনায় প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে ১৫ পুলিশ সদস্যকে সনদ ও ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। শিশু রামিসা ধর্ষণ–হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার কাজে সহায়তার জন্য পল্লবী থানার ৯ পুলিশ সদস্য; দৌলতদিয়া ঘাটে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে অর্ধশত যাত্রীর প্রাণ রক্ষার জন্য ৩ নৌপুলিশ এবং মুন্সীগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার ঘটনায় ৩ পিবিআই পুলিশ সদস্য এ পুরস্কার পান।
বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে ‘সুশাসন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোববার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।’ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবেদনটি আমার সামনে নেই। আমরা মাস ভিত্তিতে একটা পরিসংখ্যান করি। আমাদের বছর হয়নি। ২০২৫–র তুলনায় আমাদের সময় অনেক উন্নত হয়েছে। অনেক অপরাধ কম।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিআইবিতো সরকারি সংস্থা না; আপনারা পরিসংখ্যানটা নিবেন পুলিশ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আপনারই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে। আর টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কার্টিং থেকে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রত্যেকটি ঘটনা যে সঠিক–সেটা বলা যাবে না। তবে প্রত্রিকার প্রকাশিত খবরগুলো যথাযথ যাচাই করার ব্যবস্থা করা হয়।’











