আগামী ১৪ ও ১৫ জুন দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কক্সবাজার আসছেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আগমনী বার্তায় ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের মাঝে। দলের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাড়া–মহল্লায় ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোসহ সাংগঠনিক তৎপরতা। বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজও চলছে পুরোদমে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের এক সপ্তাহ আগেই কক্সবাজার এসেছেন বৃহত্তর চকরিয়া (পেকুয়া–মাতামুহুরীসহ) উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এসে প্রথমে পৌঁছান চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। এ সময় সাথে ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, কঙবাজার পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান। তাদেরকে সাফারি পার্কে স্বাগত জানান চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, এসি ল্যান্ড রূপায়ন দেব এবং জেলা ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
সাফারি পার্কে বৃক্ষ রোপণের স্থান পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পরিদর্শনে যান পেকুয়াসহ আরও যেসব স্থানে প্রধানমন্ত্রী যাবেন সেসব স্থানে। এ সময় তাদের স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেসসচিব মো. ছফওয়ানুল করিম, কঙবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সচিব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ ও ১৫ জুন দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কঙবাজারে আসছেন। প্রথমদিন ১৪ জুন সকাল ১১টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে পার্ক পরিদর্শন করবেন। এরপর পেকুয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন শেষে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়িতে অবস্থান করে দুপুরের খাবার খাবেন। এরপর চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাত্রাপথে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকাল চারটায় চকরিয়া পৌরসভার শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করবেন। এরপর পর্যটন নগরী কঙবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং সেখানে রাত্রী যাপন করবেন। পরদিন ১৫ জুন সকালে সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
কঙবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কঙবাজার আগমনকে ঘিরে চার–পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সকল ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।












