প্যারিসে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রদর্শনী ইউরোসেটরি–তে ইসরায়েল সরকারের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। গতকাল সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
প্রদর্শনীতে ইসরায়েলের কোম্পানিগুলোকেও আক্রমণাত্মক অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফলে ইসরায়েলের কোম্পানিগুলো কেবল আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদর্শন করতে পারবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তাছাড়া, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রদর্শনীতে অংশ নিতে না দেওয়ার খবরের বিষয়েও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে গাজা যুদ্ধের জেরে ২০২৪ সালের ইউরোসেটরি অস্ত্র প্রদর্শনীতেও ইসরায়েলকে অংশ নিতে বাধা দিয়েছিল ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়। এবারেও ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এটি লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত, যা রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক হিসাব–নিকাশের ইঙ্গিত দেয়। দুর্ভাগ্যবশত, এই সিদ্ধান্ত আমাদের মোটেও অবাক করেনি। মুখপাত্র আরও বলেন, এটি সামপ্রতিক বছরগুলোতে ফরাসি আচরণের একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিলে যায়, যে ধারাবাহিকতা ফ্রান্সকে ক্রমাগত ইতিহাসের ভুল পক্ষে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ২০২৩ সালে গাজায় ও লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর থেকেই তেল আবিব ও প্যারিসের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
ফ্রান্স শুরু থেকেই যুদ্ধগুলোতে ইসরায়েলের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের ডানপন্থি সরকার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোসেটরি অস্ত্র প্রদর্শনী আগামী ১৫ জুন শুরু হতে যাচ্ছে এবং এবারের প্রদর্শনীতে ২,৬০০–এর বেশি প্রদর্শক অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।












