পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন সরকারি ছুটি থাকলেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু ছিল রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও কেন্দ্রটিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান ছিল, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ৭ দিনের এই বন্ধের মধ্যে কেন্দ্রটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মা, শিশু ও সাধারণ রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ছুটির দিনগুলোতে কেন্দ্রটিতে মোট ৮ জন প্রসূতি মায়ের নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করানো হয়। এছাড়া প্রসবকালীন বা অন্যান্য জটিলতার কারণে ৬ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বড় হাসপাতালে রেফার করা হয়। পাশাপাশি ৩২ জন গর্ভবতী মাকে গর্ভকালীন সেবা এবং সন্তান জন্মদানের পর ১৫ জন মা ও নবজাতককে প্রসবোত্তর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এর বাইরেও ২ জন নারীকে এমআর সেবা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ এই ছুটির দিনগুলোতে প্রসূতি সেবার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে কিশোর–কিশোরীদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। একইসাথে সাধারণ পুরুষ ও মহিলা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সব ধরনের সেবাও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের ছুটিতে যখন সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তখন পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র খোলা থাকায় এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল ভরসার স্থান।
পদুয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) মো. এনামুল হক জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং ছুটির দিনেও যেন কোনো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই তারা নিরলসভাবে সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছিলেন।












