নতুন ঋণ চায় বাংলাদেশ, আইএমএফকে চিঠি

| বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে এসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন দিতে নতুন এই ঋণ চেয়ে ঋণ দানকারী আন্তর্জাতিক এ সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো কার্জনার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ ঋণ চাওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। বিবৃতিতে ইভো কার্জনার বলেছেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তাদের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন করার জন্য আইএমএফের কাছে একটি নতুন আর্থিক চুক্তির অনুরোধ করেছে। সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের কর্মকর্তারা সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর বিডিনিউজের।

ইভো কার্জনারের বিবৃতিতে বলেছেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো হল বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের পর থেকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারকে এখন আরও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং নতুন ও ধারাবাহিক সংস্কার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের এই অনুরোধ সংস্থাটির সঙ্গে এমন একটি সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করেছে, যা বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করবে এবং নতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে তা নির্ভর করবে বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কর্মসূচিভিত্তিক শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতির ওপর। এ জন্য আইএমএফের নীতিমালা অনুযায়ী, সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের অনুমোদন লাগবে।

ইভো কার্জনার বলেন, আইএমএফের কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন। এ সফরে তারা সামপ্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সংস্কারসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও মূল্যায়ন করা হবে। সম্ভাব্য নতুন আইএমএফসমর্থিত কর্মসূচির আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে নতুন মিশন, বলেন আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে থাকবে আইএমএফ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি, সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে রিট মামলা
পরবর্তী নিবন্ধহাম ও উপসর্গে প্রাণহানি ৬০০ ছাড়াল