ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্য শহরগুলোতে রাশিয়ার তুমুল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত ও আরও শতাধিক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এক যুদ্ধে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে রাশিয়া। খবর বিডিনিউজের।
আর চলতি বছর রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। উভয়পক্ষই বেসামরিকদের লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে ক্রেমলিন সতর্ক করে বলেছিল, তারা কিইভের লক্ষ্যস্থলগুলোতে পরিকল্পিত আঘাত হানবে। ইউক্রেইনের রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল লুহানস্কে এক ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মস্কো এ হুমকি দেয়। ইউক্রেন হামলার দায় অস্বীকার করে। রয়টার্স জানিয়েছে হামলার পর কিইভের সুউচ্চ ভবনগুলোতে বিস্ফোরণ ও সেখানে থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডুলি উঠতে দেখা যায়।
এখানে রাতভর হামলায় চারজন নিহত ও শিশুসহ ৬৫ জন আহত হয় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। ক্লিচকো জানান, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৪তলা এক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। লোকজন সম্ভবত ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্যান্য ভবনের মধ্যে নয়তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোররাতেই হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের সাবওয়েতে এসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য হাজির হয়।
তখন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা পদ্ধতিগুলো রাশিয়ার হামলা প্রতিহতে ব্যস্ত ছিল আর সারা আকাশজুড়ে তার ঝলক দেখা যাচ্ছিল। ভোর হওয়ার পরও কিইভের বিভিন্ন স্থানে আরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন। দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকজান্দার হানজা টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, দিনিপ্রো শহর ও এর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত ও আরও ৩৬ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬৫৬টি ড্রোন ও ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, অধিকাংশই কিইভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।











