ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি সংস্থা আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় পশ্চিম ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা ময়দানে গতকাল মঙ্গলবার উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক, আওলাদে রাসূল, গাউসে জামান, আলম বরদারে আহলে সুন্নাত, মুর্শিদে বরহক্ব, মুশকিল কোশা, হাজত রাওয়া, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিক্বত, হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত, বানীয়ে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.), গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ও মাসিক তরজুমান–এ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.)’র ৩৪তম সালানা ওরস মোবারক সম্পন্ন হয়। এতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.)’র সাহেবজাদা, আনজুমান ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট, পীর–এ–বাঙাল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মু.জি.আ) হুব্বে রাসুল (দ.) তথা নবীপ্রেম, ইসলামী শিক্ষা ও মানবকল্যাণের আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাহফিলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর ওরস মোবারকের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি মহতী উদ্যোগ। তিনি এ আয়োজনের সফলতা কামনা করে বলেন, আনজুমান ট্রাস্টের কর্মকর্তা এবং গাউসিয়া কমিটির কর্মীদের বিরামহীন শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে এ ওরস মোবারকের আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে এ আয়োজনকে সার্থক করতে হলে হুজুর কেবলার নকশেকদম তথা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মু.জি.আ) বলেন, হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) সুদূর রেঙ্গুন থেকে বাংলাদেশে আগমন করে আনজুমান ও জামেয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আহলে সুন্নাতের আক্বিদা প্রচার ও প্রসারের যে শক্ত ভিত নির্মাণ করেছিলেন, আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) তা আরও ব্যাপকভাবে সমপ্রসারিত করেন। গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শুধু তরিকতের কার্যক্রমকে বেগবান করেননি, বরং মানবকল্যাণে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত অবস্থানে নিয়ে গেছেন।
পীর সাবির শাহ আরও বলেন, জশনে জুলুস প্রবর্তনের মাধ্যমে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) নবীপ্রেমের যে জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রবহমান। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মুহাব্বত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিশনের প্রধান কাজই হলো হুব্বে রাসুল (দ.) প্রতিষ্ঠা করা। সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.) ও আল্লামা তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর সমগ্র মিশনই রাসূলপ্রেমের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হুজুর কেবলা পীর ভাই–বোনদের উদ্দেশে বলেন, হজরাতে কেরামের প্রদত্ত নিয়ামত ও দায়িত্ব বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা ও মুহাব্বতের সঙ্গে পালন করতে হবে। হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ প্রদত্ত ‘দাওয়াতে খায়ের’ কর্মসূচি সমাজের প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আনজুমান ও গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। পরে হুজুর কেবলা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু)। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। স্বাগত বক্তব্য দেন, আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দীন (সাকের), ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), কেবিনেট মেম্বার মাহমুদ নেওয়াজ, জামেয়ার শায়খুল হাদীস হাফেজ মুহাম্মদ সোলায়মান আনসারী, আনজুমান সদস্য শাহাজাদ ইবনে দিদার, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, আনোয়ারুল হক, তৈয়বুর রহমান, আবদুল হামিদ, লোকমান হাকীম মো. ইব্রাহীম, আবদুল হাই মাসুম, প্রফেসর জসীম উদ্দীন, সাদেক হোসেন পাপ্পু, নুরুল আমিন, মাহবুবুল আলম, মাহবুব ছফা, অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, তৌহিদুল করিম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মুহাম্মদ মারুফুর রহমান, উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন, আনজুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, যুগ্ম সচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ গোফরান, ছোবহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যবৃন্দ, জামেয়াসহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক–শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় জামেয়ার মতো একটি প্রতিষ্ঠান আমাকে গর্বিত করে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে একটি বহুতল ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ১৯৪৫ সালে তাঁর পিতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের সঙ্গে হুজুর কেবলা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.)-এর সান্নিধ্য ও বায়াতের মাধ্যমে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে হুজুর কেবলাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ এবং তাঁর আগমনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, সিরিকোটি (রহ.) ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) ইসলামী শিক্ষার যে প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছেন, তা আমাদের ধারণ করতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিস অনুবাদসহ অধ্যয়ন এবং ইসলামের সর্বজনীন শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মর্ম দিয়ে বুঝতে হবে।
আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম (মনজু) বলেন, আনজুমান হুজুর কেবলার মিশন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, শিক্ষা সমপ্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আনজুমান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আগামীতে জামেয়া বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ও গবেষণায় নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসবে। তিনি ওরস মোবারক সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন বলেন, আল্লামা তৈয়ব শাহ (রহ.) ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রচার–প্রসারে যে অবদান রেখে গেছেন তা অবিস্মরণীয়। তিনি ১৯৮৪ সালে হুজুর কেবলার বাংলাদেশ আগমন, জশনে জুলুসে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ এবং সিরিকোট দরবার সংশ্লিষ্ট নানা ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ছিল হুজুর কেবলার আধ্যাত্মিক প্রভাব ও কিরামতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মঈনুদ্দীন আশরাফী, আনজুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সচিব ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, জামেয়ার প্রধান ফকিহ মুফতি কাজী আবদুল ওয়াজেদ, ফকিহ মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী, মুহাদ্দিস ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন, আরবি প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হোসাইন কাদেরী। সঞ্চালনা করেন আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়ার অধ্যক্ষ হাফেজ কাজী আব্দুল আলীম রিজভী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











