চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জানতে ও তাঁর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হলে গবেষণার বিকল্প নেই। তাঁর জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে একটি গবেষণা সেল গঠন করা প্রয়োজন। তিনি গত শনিবার কাজীর দেউরী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনার হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের উপ কীপার অর্পিতা দাশ গুপ্তা।
মেয়র বলেন, অল্প বয়সে সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়া, পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বের প্রমাণ। তিনি কৃষি, রেমিট্যান্স ও শিল্পখাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন।ডা. শাহাদাত বলেন, আজও দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি, রেমিট্যান্স ও গার্মেন্টস খাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার ভিত্তি জিয়াউর রহমানের সময়েই তৈরি হয়েছিল। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনশক্তি রপ্তানির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ ছিল তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ।তিনি বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী দেখলে বোঝা যায় তিনি কতটা সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন, যা তাঁর সততা ও নৈতিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জিয়াউদ্দীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, তাঁর প্রতি দেশের মানুষের ব্যাপক ভালোবাসা ছিলো। প্রেসিডেন্টের শাহাদত বরণের পর তাঁর জানাজায় সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিলো।
পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিক্ষা, কৃষিসহ প্রায় সকল সেক্টরে অসীম ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সহজ, সরল জীবনযাপন করতেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, পিতার মতোই সহজ সরল জীবনযাপন করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিলো তাঁর অগ্রণী ভূমিকা।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অপামর জনসাধারণের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক। বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতি উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আট বছর ব্যাপী চলা ইরাক ইরান যুদ্ধ বন্ধে বিরাট ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












