যে বাড়িটিতে ছিল রাতদিন কোলাহল, সেই বাড়িটিতে এখন সুনসান নীরবতা। রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের সর্তা পাড়ের তিনশত গজ ব্যবধানে থাকা তিনটি পরিবারে এখন বিষাদের ছায়া। স্থানীয় মিলন মাস্টারের বাড়ির এই তিন পরিবারের তিন সন্তান সীমান্ত, জয়, জাহেদ ছিল পরস্পরের বন্ধু। তিনজনের বয়স ২২–২৪ এর মধ্যে। কাজের অবসরে তিনজন মিলে ঘুরে বেড়াতো এখানে সেখানে। আড্ডা দিতো এক সাথে বসে। বন্ধু জয় দেব রাজমিস্ত্রির কাজ করে সঞ্চয়ের টাকায় কয়েক মাস আগে কিনেছিলেন পুরনো একটি মোটরসাইকেল। বন্ধুর সখের বাইকে বেড়াতে বের হয়ে দুই বন্ধুকে বাড়ি ফিরতে হলো লাশ হয়ে। আরেকজন হাসপাতালে আছে মৃত্যু শয্যায়। জানা যায়, তিন বন্ধু গত ৩০ মে শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা ফটিকছড়িতে একটি পার্কে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিল। বাইকটি চালাচ্ছিল জয়। চলার পথে তারা পরস্পরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গেয়ে মজা করছিল। এই অবস্থায় বাইকের গতি বেড়ে গিয়ে এক সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় জয়। ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের গোড়ায় এসে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে জয়ের বাইকটি। সাথে সাথে ছিটকে পড়ে তিন বন্ধু। ঘটনাস্থলে মারা যায় সীমান্ত ও জয়। বাইকের পিছনে বসা জাহেদ দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। জানা যায়, নিহত সীমান্ত নোয়াজিশপুর ধোপি পাড়ার সনজিত দাশের একমাত্র পুত্র। তিনি হাটহাজারী কলেজে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মিলন মাস্টারের বাড়ির জয় মল্লিক এসএসসি পাস করে পরিবারের হাল ধরতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিলেন। প্রয়াত মৃদুল মল্লিকের দুই সন্তানের মধ্যে জয় ছোট। আহত বন্ধু জাহেদের বাড়ি ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর। তিনি ওই গ্রামের মোজাহের মিয়ার ছেলে হলেও থাকতেন জয়দের বাড়ির পাশে মামার বাড়িতে। এখানে মামার সাথে করতেন কৃষিকাজ। গতকাল তিন হতাহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক শোকাবহ পরিবেশ। সকালে দুজনের মরদেহ দাহ করা হয়েছে।
জয়ের বাবা বলেন, দুর্ঘটনার পর ফেইসবুক লাইভে দুর্ঘটনার ভিডিও পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান। সেখানকার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সর্বশেষ পুলিশের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ বুঝে নিতে আবেদন করলে পুলিশ লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।












