ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়সহ সারাদেশে অব্যাহত সকল ধর্ষণ ও নারীশিশু নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত, পাহাড়ে শিশু ধর্ষণ এবং ঢাকায় রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আয়োজনে রাঙামাটির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বনরূপা এলাকা থেকে ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশ করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি সুমন চাকমার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য কবিতা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা, রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লীলা চাকমা। সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবিতা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যত গুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তার একটিরও সঠিক বিচার এখনো হয়নি। এ ঘটনাগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ষণের ঘটনারগুলোর যদি সঠিক বিচার না হয়, তাহলে এই পাহাড় আর শান্ত থাকবে না, পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা বলেন, রাশিমা হত্যার ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে বিচার করার প্রক্রিয়াকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সকল নারী, শিশু ধর্ষণ নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, সে সকল ঘটনারও দ্রুত ও যথাযথ বিচার আমরা দেখতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি সুমিত্র চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অন্যায় অবিচার সংঘটিত হওয়ায় পরে অপরাধীরা নিচিন্তে ঘুরে বেড়ায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে শুধু পাবর্ত্য চট্টগ্রাম নয় সারা বাংলাদেশে এই ধরনের ধর্ষণ নিপীড়নের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো ঘটতে থাকবে। পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কারণে আজকে পাহাড়ে নারী, শিশু ও জুম্ম জনগণের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে। এসময় সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে নারী ও পাহাড়ীদের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপেকুয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে
পরবর্তী নিবন্ধচেনা