কয়েকটা দিন পেরিয়ে গেল ভাবতে–ভাবতে,
বছরখানেক আগে কথা দিয়েছিলাম–
শিগগির দেখা হবে।
হলো না দেখা,
চলে গেলেন বহুদূর।
আজকাল গাড়ির তেল খরচ
নাগালের বাইরে,
তাই আপাতত যাওয়া হচ্ছে না,
আর তাই সহসা দেখা হচ্ছে না,
হবে হয়তো–
সঠিক করে বলতে পারছি না কখন।
যেহেতু ভুবন ছাড়ার ছাড়পত্র এখনো
এসে পোঁছায়নি,
বেকেটের এস্ট্রাগন–ভ্লাদিমিরের মতো–
অপেক্ষায় কোনো এক নো–ম্যান’স ল্যান্ডে,
কিংবা অনধিকৃত পোড়ো জমির উপর–
অথবা মাঝামাঝি কোথাও।
কানে ভেসে আসে কোনো এক
ভিনদেশী মানুষের কণ্ঠে রবিবাবুর শব্দগুচ্ছ–
“আমি ভিক্ষা করে ফিরতেছিলেম
গ্রামের পথে পথে,
তুমি তখন চলেছিলে
তোমার স্বর্ণরথে।”
মনে হলো এ সেই কণ্ঠ,
যে কণ্ঠে কতশতবার রবিবাবুর কথা শুনেছি,
গপ্পো শুনেছি,
আরো সব কতো কী–
চাইলেও মনে করতে পারি না।
যেহেতু আমি এখন
আড়াআড়ি পথের বাসিন্দা।
কেবলই অপেক্ষা অপেক্ষা,
তারপরেও অপেক্ষায়–
কোনো এক বিকেলের খোঁজে,
সন্ধ্যাবাতির আলোকে ফিরে ফিরে দেখা–
বড্ড বেশি আধুনিক,
এক হাতে মোবাইল ফোন,
অন্য হাতে বিশ্বনাট্য তত্ত্ব,
ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে ঘুরতে–টুরতেই–
বোঝা গেল মানুষটি
গভীরভাবেই প্রাদেশিক,
ঠিক সেইসব মানুষের মতো,
যিনি কিনা ব্রেখ্ট নিয়ে
আলোচনা করতে পারতেন,
আবার বাজারের মাছের দাম নিয়েও
তর্ক জুড়ে দিতে পারতেন।
কারণে অকারণে মেছুয়াকে শেখাতে চাইতেন–
“জীবনতো এক চলমান ছায়া মাত্র”।
তিনি অস্তিত্ববাদ নিয়ে কথা বলতে পারতেন,
আবার কখনো–সখনো
অভিযোগ করে বলতেন–
চা–টা ঠিকঠাক বানানো হয়নি।
তিনি যেমনটি বেকেট বিশ্লেষণ করতে পারতেন,
ঠিক তেমনটিই জিজ্ঞেস করতে পারতেন
সকালের বাসটি রাতে কেন ছাড়লো?
যা ছিল এক স্ববিরোধীতা–
এক আনন্দদায়ক,
উন্মাদনাপূর্ণ স্ববিরোধীতা।
তিনি দিনদিন প্রতিদিন,
চিৎকার করে গলা পরিষ্কার
করতে করতে বলে চলতেন–
“মরণ রে তুঁহুঁ মম শ্যামসমান”।
পর্দা উঠতেই
আলো জ্বলে উঠলো,
তিনি প্রবেশ করলেন
ম্যাকবেথের মতো দম্ভভরে যেমন,
আবার হ্যামলেটের তৃতীয় অঙ্কের মতো বিষণ্ন তেমন,
মিলেঝুলে রবীন্দ্রনাথের নায়কের মতো চপল ভঙ্গিতে।
রবিবাবু তাঁর কানেকানে বললেন–
“এগিয়ে যাও, এটাকে নিজের করে নাও”–
আমাদের মঞ্চসারথি ঠিক তাই করলেন।
আসুন সকলে মিলে
মঞ্চের যবনিকাপাতের অভিবাদন জানাই–
যেহেতু তিনি দিয়েছেন হাসি,
তিনি দিয়েছেন বিশৃঙ্খলা,
তিনি দিয়েছেন মেধা।
শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকেই দিয়েছেন…
ওহ, তিনি কতোকিছুই না দিয়েছেন;
অতএব, যাত্রা শুভ হোক বন্ধু, বিদায়:
“Here I gave back the keys of my door
–and I gave up all claims to my house”.
বিদায়, বি…দা…য়…







