পৃথিবীটা অস্বাভাবিকভাবে শান্ত হয়ে গিয়েছিল। না কোনো গাড়ির শব্দ, না মানুষের চিৎকার, না কারো হাসি। শুধু বাতাসের শব্দ আর ফাঁকা শহরের নিঃশ্বাস। আমি ঢাকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, অথচ মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবীটাই একটা পরিত্যক্ত জাদুঘর।
প্রথম কয়েকদিন আমি স্বাধীনতা অনুভব করেছিলাম। কোনো নিয়ম নেই, কোনো পরীক্ষা নেই, কাউকে ইমপ্রেস করার চাপ নেই। আমি যেকোনো দোকানে ঢুকতে পারতাম, যেকোনো রাস্তায় হাঁটতে পারতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, স্বাধীনতা আর একাকীত্ব এক জিনিস না।
মানুষ সারাজীবন নীরবতা চায়, অথচ যখন সত্যিকারের নীরবতা আসে, তখন সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর শব্দ হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন রাতে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে কথা বলছিলাম। কারণ পৃথিবীতে আর কেউ ছিল না যে আমাকে শুনবে। তখন হঠাৎ মনে হলো-‘যদি মানুষের অস্তিত্বের অর্থই হয় অন্য একজন মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া?’ সেই রাতে প্রথমবার আমি মৃত্যুকে ভয় পাইনি। আমি ভয় পেয়েছিলাম ভুলকে।











