‘ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে’ চুক্তি করতে তাগাদা ট্রাম্পের

ইরানের নজর হরমুজ প্রণালির গভীরের সাবমেরিন তারে

| সোমবার , ১৮ মে, ২০২৬ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনা থমকে থাকার মধ্যে ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত চুক্তি করার জন্য তাগাদা দিয়ে নতুন করে হুমকিও দিয়েছেন। তবে ইরান এবার হরমুজ প্রণালীর নিচে থাকা সাবমেরিন কেবল নিয়ে ভিন্ন কৌশলে চাপ সৃষ্টি করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তারা (ইরান) দ্রুত অগ্রসর হলেই ভাল করবে। যদি তা না করে তবে তাদের আর কোনও কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় থাকতেই কাজ শেষ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার আগে দিয়ে ট্রাম্প ইরানকে এই বার্তা দিলেন। এর আগে ফ্রান্সের চ্যানেল বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারেও ইরানকে হুঁশিয়ার করেন তিনি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুতই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় আসতে চলেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। খবর বিডিনিউজের।

ওদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এ সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি এখন বিশাল লাইফ সাপোর্টে আছে বা কৃত্রিমভাবে টিকে আছে। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর এই মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির নামে এমন সব শর্ত দিচ্ছে যা তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। ইরান লেবানন ও ইরাকে হামলা বন্ধ করা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইরানের নজর সাবমেরিন তারে : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করেছে ইরান। এতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য। তার মধ্যেই এবার ইরান নজর দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন কেবল বা তারের দিকে। ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ রক্ষা করে এই সাবমেরিন ফাইবার অপটিক তার। হরমুজ প্রণালির গভীরে বিছিয়ে থাকা এই তারগুলো দিয়ে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ ও ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়। ইরান এবার এই তারগুলোর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে চায়। ইরানের সরকারসংশ্লিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যমে প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে এমন হুমকিও দিয়েছে যে, বিশ্বের নামকরা প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ভাড়া না দিলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ইরানের আইনপ্রণেতারা গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে আরব দেশগুলোর সংযোগ রক্ষাকারী সাবমেরিন তারগুলোকে নিশানা করতে পারে ইরান।

এক্স অ্যাকাউন্টে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি লিখেছেন, ইন্টারেনেটের তারে ভাড়া চাপাব আমরা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান যে ইন্টারনেট তারের জন্য রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা করেছে, তাতে গুগ্‌ল, মেটা, মাইক্রোসফ্‌ট, অ্যামাজনের মতো সংস্থাগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে। তাছাড়া, সাবমেরিন কেবল সংস্থাগুলোকে ‘কেবল প্যাসেজ’এর জন্য লাইসেন্স ফি দিতে হবে। পাশাপাশি সেই তারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব দিতে হবে কেবলই ইরানের সংস্থাগুলোকে।

কয়েকটি প্রযুক্তি সংস্থা হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরে ইন্টারনেটবাহী তারগুলো পাততে বিনিয়োগ করেছে। তবে এগুলো ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ওদিকে, মেটা, মাইক্রোসফ্‌টের মতো প্রযুক্তি সংস্থা ইরানের চাপের কাছে মাথা নত করবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সংস্থাগুলো ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে যেতে পারবে না। ফলে সংস্থাগুলো ইরানের হুঁশিয়ারিকে তেমন গুরুত্ব নাও দিতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
পরবর্তী নিবন্ধআরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা