কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্যাপন এবং সংস্থার স্মরণিকা ‘স্পন্দন’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ দৈনিক আজাদীর কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। কিডনি রোগীকল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এড. জিয়া হাবীব আহ্সান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাব্বির আহমদ। সংস্থার অর্থ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ সরওয়ার, ডা. দুলাল দাশ, দৈনিক নয়া বাংলার সম্পাদক জিয়াউদ্দিন হিরু, আজীবন সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ, সংস্থার সহ–সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আবু মুসা, স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী কল্যাণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক মনি, কার্যানির্বাহী সদস্য আহসান হাবীব বাবু, প্রকাশনা উপ–কমিটির সদস্য এস. এম কামরুল ইসলাম, ঢাকা উপ–কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আজীবন সদস্য নজরুল ইসলাম শুকরিয়া, মোকাম্মেল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংস্থার আজীবন সদস্যদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ ও কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াহিদ মালেক বলেন, বর্তমান সময়ে কিডনি–রোগ একটি জটিল ও ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য সমস্যা। গুটিকয়েক অবস্থাপন্ন রোগী ছাড়া অধিকাংশ কিডনি রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয়ের ভার বহন করতে না পেরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
তিনি বলেন, যেকোন মানবিক চিকিৎসাসেবার জন্য একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাই আমাদের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের জন্য টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করা।
ওয়াহিদ মালেক বলেন, আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে–চট্টগ্রাম মহানগরীতে একটি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও একটি পূর্ণাঙ্গ কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে নগরীর সুবিধাজনক স্থানে একটি সুপরিসর সরকারি খাসভূমি প্রাপ্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সিনিয়র সহসভাপতি এড. জিয়া হাবিব আহসান বলেন, বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয়ের বাধ্যবাধকতা (২২ ধরনের আত্মীয়) প্রধান আইনি বাধা, যা দাতা সংকট তৈরি করছে। ২০১৯ সালের হাইকোর্টের রায়ে আত্মীয়ের বাইরেও (মানবিক/ইমোশনাল ডোনার) কিডনি দানের সুযোগ তৈরির নির্দেশ থাকলেও, পূর্ণাঙ্গ আইন সংশোধনে বিলম্বের কারণে জটিলতা কাটেনি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার আইনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন ও সহজ করলে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিদ্যমান আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এতে করে আত্মীয়ের বাইর থেকেও কিডনি গ্রহণ সহজতর হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












