জলাবদ্ধতা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে

হিজরা খালসহ বিভিন্ন খাল পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী । প্রকল্পে লুটপাট হয়ে থাকলে তার হিসাব বের করা হবে

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৭ মে, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

কঠিন অবস্থার মধ্যেও নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে লুটপাট হয়ে থাকলে তার হিসাব বের করা হবে বলেও ঘোষণা দেন। এসময় নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এ বছরের শেষের দিকে সমাপ্ত হবে। এরপর নগরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না। এছাড়া তিনি খালকে ডাস্টবিন বানানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

আমির খসরু গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এদিন প্রবর্তক মোড়ে হিজরা খালসহ বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে তিনি শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

আমির খসরু জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে প্রকল্প করা হলেও যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চেষ্টা করছি, যে অর্থ প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য। যদিও বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের অবস্থা কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছে। বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা এই পুরো প্রকল্পটার সুষ্ঠু সমাধান করতে পারব।

জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, লুটপাটের হিসাব তো আলাদা। লুটপাটের হিসাব নিশ্চয়ই বের করা হবে। এই লুটপাটের সাথে কারা জড়িত সেটাও বের করা হবে। সেটা আরেকটা বিষয়। এখন প্রকল্পটা সমাধান না করলে চট্টগ্রামবাসী যে জলবদ্ধতায় কষ্ট পাবে সেটাকে আমাদের প্রাধান্য দিতে হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, এই প্রকল্প এই বছরের শেষের দিকে বাস্তবায়ন শেষ হয়ে যাবে। তখন পরিপূর্ণভাবে আমরা এটার রেজাল্ট পাব। কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা আশা করছি চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। সার্বিকভাবে আমি চট্টগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, এই প্রকল্প সঠিকভাবে এই বছরের শেষে আমরা সম্পাদন করতে পারলে আগামীতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার একটা বড় ধরনের সমাধান হবে। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। যদিও অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ অনেকগুলো কাজ করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং যেখানে যা সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িঘর রয়েছে, তা সরাতে হচ্ছে, সেখানে প্রতিরোধ দেয়াল দেওয়া হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে। সার্বিকভাবে চট্টগ্রামে ১৩০টা খাল আছে, প্রত্যেকটা খাল মাথায় রেখে এই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা আশা করছি চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পটা শেষ হওয়ার পর ওভার অল ম্যানেজমেন্ট আছে। এই ম্যানেজমেন্টের সাথে যে সমস্ত সংস্থা জড়িত, মেয়রের নেতৃত্বে একটা কমিটি করা হয়েছে। সবাই একসাথে কাজ করছে। যে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে সেই সমন্বয় এখন আমরা করতে পারছি। যেটা আগে ছিল না।

তিনি বলেন, জনগণের এখানে সহযোগিতা দরকার। যে হারে খালের মধ্যে মানুষ সবকিছু ফেলে, মনে হয় যে খাল হচ্ছে একটা ডাস্টবিন, এই মানসিকতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা যারা খালকে সবসময় বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যবহার করি তাদেরকে সংযত থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।

নগরের ছোটবড় ১৩০টি খালের প্রসঙ্গ টেনে খসরু বলেন, আগেও বলেছি ১৩০টা প্রত্যেকটি খালকে এটার আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। কতটুকু বৃষ্টি হলে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং সাগরে আউটলেট দিয়ে কীভাবে পানি নিষ্কাশিত হবে, তার সব হিসাবনিকাশ করে কাজগুলো করা হচ্ছে। হাইড্রোগ্রাফিক একটা ব্যাপার আছে এখানে। এখানে জোয়ারভাটার বিষয় আছে। স্লুইচগেট ম্যানেজমেন্টের বিষয় আছে। সবগুলো কাজ গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিইপিজেড থেকে পণ্য পাচারে পুরনো চক্র ফের সক্রিয়
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬