চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না : এনসিপি

নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৬ মে, ২০২৬ at ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের মাটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংহতি জানায় যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তি। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল জামালখান, চেরাগি, মোমিন রোড, আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

গত বৃহষ্পতিবার বেলা ১১ টায় নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা। জানাজা শেষে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়। মূলত এর প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দেওয়াদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন ও হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক জোবাইর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ ইকবাল চৌধুরী, ডা. এ আর রহমান মাবরুর, আশরাফুল হক টিপু ও যুবশক্তির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইফাদ ইব্রাহিম।

মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে কারও জানাজা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি তখনই যখন দেখতাম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জানাজা হতে দেওয়া হতো না। তখন এই নেতাদের জন্য পরিবারকে একাধিক কবর খুঁড়তে হতো। কিন্তু আমরা দেখলাম এক আওয়ামী লীগ নেতার জানাজা শেষে শেখ হাসিনাকে বীরের বেশে ফিরিয়ে আনতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব খুনি ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, তারা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার স্লোগান দিয়েছে। সেখানে চট্টগ্রামের মেয়র উপস্থিত আছেন, তার পেছনে জয় বাংলা স্লোগান হচ্ছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি, যদি আওয়ামী লীগের কোনো সন্ত্রাসী বীর চট্টলায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, বীর চট্টলার জুলাই যোদ্ধারা সংঘবদ্ধভাবে তাদের প্রতিরোধ করবে।

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, জানাজার মতো একটি ধর্মীয় ও সংবেদনশীল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যেভাবে অবৈধ মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মীরা ধৃষ্টতাপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার সাহস পেয়েছে, তা চট্টগ্রামের সচেতন ছাত্রজনতার মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শাহেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, গতকাল দেখলাম জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম৯ আসনের যিনি প্রার্থী ছিলেন তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং বিএনপির মেয়র গেছেন। জামায়াত আমাদের ১১ দলীয় জোটের অংশীদার, জামায়াতে ইসলামীর কাছে জানতে চাই, আপনাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি গিয়েছেন কিনা। যদি তিনি ব্যক্তিগতভাবে যান সাংগঠনিক কী ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআ. লীগ শুধু বিতাড়িতই হয়নি, দেউলিয়ায় পরিণত হয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখে দেওয়ার দাবি