লোহাগাড়ায় চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মাওলানা আবুল কাশেম (৬০) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলানা আবুল কাশেম স্থানীয় মৃত আব্দুর সোবহানের পুত্র ও চরম্বা জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন নিহতের বোন সখিনা খাতুন (৫৫), হাফেজ আহমদের পুত্র চাচাতো ভাই শাহ আলম (৩৭) ও কবির আহমদের পুত্র চাচাতো ভাই হারুনুর রশিদ (৪০)। ঘটনার সাথে জড়িত কবির আহমদের পুত্র সামশুল আলম (৩৫) ও হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামশুল আলম থানা হেফজতে রয়েছে। আর হারুনুর রশিদ পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিপক্ষ সামশুল আলম ও হারুনুর রশিদ সম্পর্কে নিহত মাওলানা আবুল কাশেমের চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত জায়গা–জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিরোধীয় জায়গায় প্রতিপক্ষরা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছিল। এ সময় মাওলানা আবুল কাশেম বাধা প্রদান করলে প্রতিপক্ষরা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে ফোরকান আহমদ জানান, ঘটনারদিন সকালে তার বাবা নিজ কর্মস্থল মাদ্রাসায় যান। এ সময় সামশু এবং হারুন তার বাবার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের কয়েকজন আত্মীয়ের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক তাদের জায়গার উপর পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। খবর পেয়ে তার বাবা মাদ্রাসা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা লাঠি দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম শিহাব জানান, হতাহত ৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। আহত শাহ আলম ও হারুনুর রশিদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আর সখিনা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার পূর্বক আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।












