মোবাইলে অজ্ঞাত লিংক, ক্লিক করায় উধাও সাড়ে ৩ লাখ টাকা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

মোবাইল ফোনে আসা অজ্ঞাত লিংকে ক্লিক করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হারিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ব্যক্তি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক ও বিকাশ একাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি চক্র এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেউল্লেখ করে গতকাল ভুক্তভোগী ব্যক্তি চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় তিনি মো. রকিবুল খাঁ নামের এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা হ্যাকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রকে আসামি করেছেন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি হলেননগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা সুলতান নাসির আলম। আদালত তার নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে বাদীর আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বাদী সুলতান নাসির আলমের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত লিংক আসে। তিনি সরল বিশ্বাসে উক্ত লিংকে ক্লিক করলে ‘AYODATE’ নামক একটি স্পাইওয়্যার/ম্যালওয়্যার অ্যাপ তার ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে হ্যাকার চক্র তার ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং নগরীর ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে দফায় দফায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০ টাকা এবং তার বিকাশ একাউন্ট থেকে লোন গ্রহণসহ মোট ৬২ হাজার ৬০০ টাকা ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। এসব টাকা তথা মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫০ টাকা মো. রকিবুল খাঁ নামের এক ব্যক্তির পূবালী ব্যাংক হিসাবসহ কয়েকটি বিকাশ নাম্বারে স্থানান্তর করা হয়। যা সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ জানিয়ে আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, বাদী পক্ষে আমরা নালিশি মামলার আবেদন করলে আদালত তা আমলে নেন এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্তভার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। যেকোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা বা অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি বলেও জানান আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান।

মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ৫ মে বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত লিংক আসে। সরল বিশ্বাসে উক্ত লিংকে ক্লিক করা মাত্রই ‘AYODATE’ নামক একটি স্পাইওয়্যার/ম্যালওয়্যার অ্যাপ বাদীর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। সেইসাথে তৎক্ষণাৎ বাদীর মোবাইল ফোনটি System update মোডে চলে যায় এবং বাদীর ডিভাইসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (Remote access) চলে যায় চক্রের হাতে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাদী লক্ষ্য করেন যে, তার মোবাইল ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা এক্সেস কোনো হ্যাকার চক্র নিয়ে নিয়েছে। হ্যাকার চক্রের হাতে পড়েছে বুঝতে পেরে তিনি তখন তাৎক্ষণিকভাবে নগরীর ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সেখানে থাকা তার হিসাব চেক করে দেখেন যে, চক্র ইতিমধ্যে তার একাউন্ট থেকে দফায় দফায় মোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া তার বিকাশ একাউন্ট থেকে ১৬ হাজার ৪৩৮ টাকা লোন নেওয়াসহ ৩টি বিকাশ একাউন্টে মোট ৬২ হাজার ৬০০ টাকা সেন্ড মানি করে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাদীর ডিজিটাল পরিচয় জালিয়াতি করে পাসওয়ার্ড ও ওটিপি বাইপাস করে অত্যন্ত চাতুরতার সাথে এই ডিজিটাল ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলেও আরজিতে বলা হয়।

আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপর তিনি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষই চক্রের হোতা রকিবুল খাঁ’র নাম ও একাউন্টের তথ্য তাকে প্রদান করেছেন। ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য চুরি এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বাদীর কষ্টার্জিত অর্থ অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে উল্লেখ করে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সাইবার বিশেষজ্ঞ ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে জানিয়ে তাকে আদালতে গিয়ে নালিশি মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাণিজ্যিকভাবে চালু হলো ই-ঋণ, সীমা ৫০ হাজার
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলী টানেলের ওপারে বিল্ডিংগুলোর প্রয়োজন ছিল না : প্রধানমন্ত্রী