‘নিরাপদ বন্দর, সমৃদ্ধ দেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ’। গতকাল (রোববার) সকালে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।
উদ্বোধনের পর বন্দরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বন্দর পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অপারেশনের বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের স্থাপনা, যন্ত্রপাতি, কর্মকর্তা–কর্মচারী, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ
করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. সামীমুজ্জামান জানান, আধুনিক সময়ের ঝুঁকি মোকাবেলায় বন্দরে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান জানান, বন্দর পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক ও কর্মচারীরা। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেফটি ব্রিফিং, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দ্রুত জরুরি সাড়া প্রদান এবং পরিবেশ ও সম্পদ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে বন্দরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও দুর্যোগ মোকাবেলা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ চলাচল বিষয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক সাইন ও জরুরি নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে বন্দরের অভ্যন্তরীণ যান চলাচল আরও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা শুধু একটি বিভাগের দায়িত্ব নয়; বরং বন্দর ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও আধুনিক বন্দর গড়ে তোলা সম্ভব।














