চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব একটি দুর্যোগের মতই। এটি রোধকল্পে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে সারাদেশে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৬–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে হাম–রুবেলা (এম.আর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে পর্যন্ত জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এ কর্মসূচি চলমান থাকবে। এ বয়সী সকল শিশুকে হাম–রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাসহ সব জায়গায় এ বয়সের কোন শিশু যাতে হাম–রুবেলার টিকা থেকে বাদ যা পড়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগে হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। টিকা প্রদানে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
হাম–রুবেলার জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৬ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গতকাল রোববার সকাল ১১টায় বিভাগীয় কমিশনার কর্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় আয়োজিত বিভাগীয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, হাম–রুবেলার (এম.আর) টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সর্বত্র প্রচার–প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬–৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ ৯৬ হাজার শিশুকে হাম–রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল ৯ মে পর্যন্ত টিকা প্রদানের হার ৯৮.৩ শতাংশ। এ বয়সী যে সকল শিশু রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদেরকে এবং যারা এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেনি তাদেরকেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজে বের করে নির্ধারিত কেন্দ্রে এনে বিনামূল্যে এক ডোজ এম.আর টিকা দেয়া হচ্ছে।
বিভাগীয় কমিটির সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে হাম–রুবেলার (এম.আর) টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু আলোকপাত করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী।
তিনি জানান, সারাদেশের ন্যায় গত ৫ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগেও এম.আর ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলমান থাকবে।
সভায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) রাশেদা আক্তার, ইউনিসেফ’র চিফ অব ফিল্ড অফিস মিস মাধুরী ব্যানার্জী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবু সালেহ মো. ফোরকান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ–পরিচালক ইনসিটু পরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (সিয়ারো) মেডিকেল অফিসার (ইমিউনিজেশন এন্ড ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট) ডা. সুধীর যোশী, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মুস্তফা মনসুর আলম খান, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেল কার্যালয়ের উপ–পরিচালক বেগম সাহান ওয়াজ, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ–প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. সাঈদ হাসান, ইউনিসেফ’র জোনাল হেলথ অফিসার ডা. দেলোয়ার হোসেন, ইউনিসেফ’র ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্ট ডা. মো. সরোয়ার আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফ.এম জাহিদুল ইসলাম, স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি লোপামুদ্রা মহাজন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও (সিটি করপোরেশন) ডা. খাদিজা আহমদ। সভায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














