আসন্ন কোরবানির ঈদে এবারও চট্টগ্রাম মহানগরী ও ১৫ উপজেলায় ৪ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। কিন্তু বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা ৪ লাখের মতো কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বলে জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫) চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি; কিন্ত গত বছর চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা চট্টগ্রাম মহানগরী ও ১৫ উপজেলা থেকে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩৫১ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যের সাথে চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের ব্যবসায়ীদের একমাত্র সংগঠন বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের চামড়া সংগ্রহের ব্যবধান প্রায় অর্ধেকের কম। খবর নিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা ছাড়াও বেশ কিছু মাদ্রাসা–এতিমখানা এবং খুচরা ব্যবসায়ী বিচ্ছিন্নভাবে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে ঢাকার বেশ কিছু ট্যানারির কাছে বিক্রি করে থাকেন। যা চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির বাইরে। এসব মাদ্রাসা–এতিমখানা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরাও প্রায় লাখ–দেড় লাখের মতো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। তারপরও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদার হিসেবের সাথে প্রায় সাড়ে ৩ লাখের কোরবানির মিল পাওয়া যায় না।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, এবারও আমরা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ মিলে ৪ লাখের মতো কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। তবে এবার আমাদের সদস্যদের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের প্রতি বছর আত্মীয়–স্বজন বন্ধু–বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে হয়। আমাদের সমিতির ১১২ জন সদস্যের মধ্যে অনেকেই এখন লোকসানের মুখে পড়ে এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে গেছে। তবে আমাদের সমিতির বাইরে অনেকেই কিছু কিছু কোরবানির চামড়া কিনেন। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে বলা হয়–কোরবানি বাড়বে; উনারা যে পরিমাণে কোরবানি হবে বলে জানান, কোরবানি শেষে আমরা সেই পরিমাণ চামড়া খুঁজে পাই না। গতবার আমরা একেবারে দোহাজারী থেকে শুরু করে পতেঙ্গা–আগ্রাবাদ–বিবিরহাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে রাউজান–হাটহাজারী–নাজিরহাট–ফটিকছড়ি পর্যন্ত ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩৫১ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। প্রতি বছর এরকমই ৪ লাখের মত লবণজাত করে থাকি আমরা।
আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, এবার কোরবানকে সামনে রেখে চামড়া সংগ্রহের জন্য আমরা গুদাম রেডি করছি, লবণ সংগ্রহ করছি। কাঁচা চামড়া কেনার জন্য অনেক টাকার দরকার। আমাদের অনেক সদস্যদের পুঁজি নেই। আমরা সরকারের কাছে বছরের পর বছর দাবি জানিয়ে আসছি–কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য কোরবানির আগে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু আমরা কোন সরকারের কাছে এই সুবিধা পাইনি। বর্তমান সরকারের আমাদের আকুল আবেদন–দেশের কাঁচা চামড়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ীদের যাতে ব্যাংক ঋণের সুযোগ করে দেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর কোরবানির আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দাম পাইনি। আমরা আড়তদাররা নির্ধারিত দামে কোরবানির দিন কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দেয়ার পর ঢাকার ট্যানারি মালিকরা নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে চান না।
আড়তদার সমিতির ব্যবসায়ীরা জানান, তারা গুদাম ভাড়া নিয়ে, শ্রমিকের বেতন দিয়ে, লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে হয়।
চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঢাকার ১৭০টি ট্যানারি থাকলেও চট্টগ্রামে শুধুমাত্র রিফ লেদার ছাড়া আর কোনো ট্যানারি না থাকায় ঢাকার ট্যাানরি মালিকদের উপরই ভরসা করতে হয় চট্টগ্রামের আড়তদারদের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা ট্যানারি মালিকরা একদিকে নির্ধারিত দাম দিতে চান না এবং অন্যদিকে বাকিতে চামড়া নিয়ে একই বছরের চামড়ার টাকা পরের বছর পরিশোধ করেন।













