চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি জ্বর পরবর্তী জটিলতায় ভোগার মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে মারা গেছেন। অল্প সময়ের জ্বর থেকে খিচুনি, পাতলা পায়খানা, বমি, স্ট্রোক, রেসপিরেটরি ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট এবং পরে মৃত্যু। চিকিৎসকরা তার ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষায় একিউট ডিসেমিনেটেড এনকেফেমাইএলেটিস বা এডিইএম নির্ণয় করেছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের একটি বিরল কিন্তু গুরুতর প্রদাহজনিত রোগ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে স্নায়ুর চারপাশের সুরক্ষামূলক আবরণ মাইলিন আক্রমণ করে। ফলে স্নায়ুর মাধ্যমে সিগন্যাল ঠিকভাবে চলতে পারে না।
জানা যায়, শিক্ষক জুথি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ১৫ দিন আগে বান্দরবানে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাই প্রথমে ম্যালেরিয়া সন্দেহ করে ম্যালেরিয়ার পরীক্ষাও করান। কিন্তু ম্যালেরিয়ার পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসা এবং জ্বর পরবর্তী শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার কারণে শিক্ষক জুথি মশাবাহিত ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করেছেন চিকিৎসকরা। যা সাধারণত কিউলেঙ মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কে গুরুতর প্রভাব ফেলে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুস সাত্তার আজাদীকে বলেন, সিভাসুর শিক্ষকের সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট আমি দেখেছি। তার ব্রেনের এমআরআইয়ে যে ধরনের পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করলাম, এটি ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হতে পারে।
অধ্যাপক জুথির সহকর্মী সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শিরিন আকতার বলেন, জুথির গত শনিবার রাতে জ্বর আসে। পরদিন পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। একইদিন শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি অবস্থায় সোমবার ভোর ৬টার দিকে তার প্রচন্ড খিঁচুনি হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শুরুতে ডাক্তাররা ম্যালেরিয়া ধারণা করেছিলেন। কিন্তু সোমবার সকালে এমআরআই করার পর দেখা যায় জুথির ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি, ব্রেইনে ক্ষতি এবং অন্যান্য লক্ষণ দেখে ডাক্তাররা মত দেন, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস হয়ে থাকতে পারে। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় তাকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুরুতে আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনে যেটুকু রেসপন্স করেছিল, পরে আর তাও করছিল না। গত বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিভাসুর শিক্ষক জুথির বান্দরবান যাওয়ার হিস্ট্রি থাকার কারণে প্রথমে ডাক্তাররা ম্যালেরিয়া সন্দেহ করেছিল। তবে পরে ম্যালেরিয়া রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে তার এমআরআই পরীক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। যা কয়েকজন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাস হিসেবে সন্দেহ করে। এটি একটি মশবাহিত ভাইরাস।













