রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা–কদমতলী ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২ মে দুপুর থেকে ৬ মে দুপুরের মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে চন্দ্রঘোনা হাফেজ পাড়া এলাকার ‘ইয়াকুব ম্যানশন’–এ এই চুরির ঘটনা ঘটে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ প্রায় ৭৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১৮ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোকসানা বেগম (৫৬) বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম গত ২ মে দুপুরে তার ছোট ছেলে, ছেলের বউ ও ছোট মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান। এই সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে চোরচক্র প্রবেশ করে। গত ৬ মে সকালে ভাড়াটিয়া আজমা আক্তার ঘরের মেইন দরজার তালা ভাঙা এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখে রোকসানা বেগমকে মুঠোফোনে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়িতে এসে দেখেন, ঘরের ভেতরের দুটি আলমারির তালা ভেঙে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে।
তালিকায় দেখা যায়, প্রথম আলমারি থেকে রোকসানা বেগমের ৩ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২ লাখ টাকা, ছোট মেয়ে তাহসিন আক্তারের ১৬ ভরি স্বর্ণ, জমি বিক্রির নগদ ১২ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ইউএস ডলার চুরি হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় আলমারি থেকে ছোট ছেলে তায়েব আজমের জমি বিক্রির বায়না বাবদ নগদ ৬ লাখ টাকা, অনলাইন ব্যবসার নগদ ৫০ হাজার টাকা, ছোট ছেলের স্ত্রীর ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও আংটি এবং মাটির ব্যাংকে জমানো ১৮ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৭৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১৮ টাকার সম্পদ নিয়ে যায় চোরচক্র।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর আত্মীয়–স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের সাথে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে জানিয়ে এসআই মো. জাকির বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে জানান।














