অধিনায়ক লিটন দাস মনে করেন প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের নায়ক তিনজন। তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেনের সাথে আছেন পারভেজ হোসেন ইমনও। তাদের মধ্যে ফিফটি করেছেন কেবল হৃদয়, বাকি দুজন পারেননি ফিফটির কাছাকাছি যেতেও। কিন্তু নায়কোচিত কাজই করেছেন এই তিনজনা। ২৭ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হৃদয়। প্রথম ৯ ওভারে ৬৬ রান তোলা বাংলাদেশ পরের ৯ ওভারে ১১৭ রান তুলে ফেলে স্রেফ একজনের ব্যাটেই নয়। ৬ উইকেটের জয়ে পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের ক্যামিও দুটিরই ছিল বড় ভূমিকা। ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে যান পারভেজ। হৃদয়ের সঙ্গে তার ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটিই নড়বড়ে অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয় জয়ের দিকে। পরে হৃদয় ও শামীমের ২১ বলে ৪৯ রানের জুটিতে খেলা শেষ হয়ে যায় ২ ওভার আগেই। ১৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম। ম্যাচের পর হৃদয় তুলে ধরেন এই সময়ের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাস্তবতা। প্রথাগত কোনো মাইলফলক নয়, প্রভাববিস্তারি পারফরম্যান্সই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ‘চার নম্বর বা পাঁচ নম্বর এমন একটা পজিশন এসব পজিশন থেকে ফিফটি হঠাৎ একদিন দুইদিন হবে। যেদিন ওই পজিশন থেকে কেউ ফিফটি করবে, তার মানে বুঝতে হবে দল অনেকটুকু ব্যাকফুটে ছিল। কারণ দ্রুত তিন–চারটা উইকেট পড়েছে। ওই জায়গাটা ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস দরকার, শামীম আজকে যেটা করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে ওই ইনিংসটা একটা ফিফটির থেকেও অনেক বড় ইনিংস। শামীম এবং ইমন যেটা করেছে। এই জিনিসটা আমাদের নিজেদেরও বুঝতে হবে যে ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসটা আসলে কতটুকু। অনেক সময় আমরা নিজেরাও চিন্তা করি যে ফিফটি বা সেঞ্চুরি করতে হবে। টি–টোয়েন্টিতে ১০ রানও কার্যকর ইনিংস হতে পারে, যেটা আজকে শামীম আর ইমন দুজন মিলে করেছে ম্যাচটা জেতানোর জন্য, কাজ আরও সহজ হয়ে গিয়েছে।’ হৃদয় বলেন, ক্রিজে নামার পর থেকেই পাল্টা আক্রমণ করে তার কাজ সহজ করে দিয়েছেন পারভেজ। ‘মিডল অর্ডারে খেলাটাই এমন একটা পজিশনে, এই জায়গায় আপনাকে মারতেও হবে এবং খেলাটা বানানোও লাগবে। ইমন ওই সময় যেভাবে আক্রমণ করেছে, ওইটা আমার জন্য আরও সহজ করে দিয়েছে জিনিসটা। আমার মনে হয়েছে খেলাটা অনেক হাতে এসেছে এবং মনে হয়েছে এখন এতটা ঝুঁকি না নিলেও হবে।’ ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি ছিল নিঃসন্দেহে ন্যাথান স্মিথের বলে ‘নো লুক’ শটে শামীম হোসেনের ছক্কাটি। ক্রিজে গিয়ে তৃতীয় বলেই ওই শট খেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, যেটিকে আসলে পুল–হুক–স্কুপের মাঝামাঝি কিছু বলা যায়। চোখের পলকে কিপারের পেছন দিয়ে সেটি ছক্কা হয়ে যায়। হৃদয়ের মতে, এই ধরনের শট বাংলাদেশে কেবল শামীমই খেলতে পারেন। ‘আমি তো অনেক উপভোগ করি ওর ব্যাটিং, সত্যি কথা বলতে। কারণ ও এমন এমন শটস খেলে, যেটা আমাদের কম ব্যাটসম্যানই আছে যে ওরকম খেলতে পারে। ছয় নম্বর পজিশনে এরকম ক্রিকেটারই দরকার যে, যে কোনো সময় রান করে দিতে পারবে। বোলাররাও অনেক চাপে থাকে ব্যাটসম্যান এরকম শটস খেললে। যে ছয়টা ও মেরেছে, আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন এরকম ছয় আমরা খুব কমই মারতে পারি। অবশ্যই দোয়া করি যেন ধারাবাহিকভাবে আরও ভালো কিছু করে।’












