২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। ১১তলা বিশিষ্ট ছয়তলা নির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। নবনির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় আরেকধাপ এগিয়ে গেল। পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজ করছে। পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে যেসব সমস্যা রয়েছে; তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। শুধু জেলা সদর নয়, পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলো আধুনিকায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুতই স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিরসন করা যাবে।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. প্রীতি প্রসূণ বড়ুয়া, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন, রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জয় বড়ুয়া, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা.শওকত আকবর খান প্রমুখ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবাখাতের অগ্রগতি হল। তবে পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সচল করা গেলে এর সুফল পাবেন রাঙামাটির মানুষ। বিশেষত রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল রেফার্ড হাসপাতাল হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে আসা রোগীদের সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজতর হবে।
এদিকে, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) রাঙামাটি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (চতুর্থ এইচপিএনএসপি)’ আওতায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের অত্যাধুনিক ভবনটি নির্মিত হয়েছে। ভবনটি ১১তলা ভিতবিশিষ্ট হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ভৌত খাতে ৩৪ কোটি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি খাতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। ভবনটিতে ১ হাজার ৬০০ কেজি ধারণসক্ষমতা সম্পন্ন দুটি লিফট, এক হাজার কেজি ওজন সক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটিসহ মোট চারটি লিফট রয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল অঙিজেন সরবরাহের জন্য পাইপ লাইন রয়েছে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। তবে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। গতকাল সোমবার ভবনটির উদ্বোধন করা হল। এরমধ্যে গত ১৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছে।














