রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় মারা যাওয়া একটি এশিয়ান বুনো হাতির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয়দের নজরে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতা ছিল বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা। যদিও বন বিভাগের দাবি, রাতে ঝড়–বৃষ্টি এবং জঙ্গলের ভেতরের এলাকা হওয়ায় তাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত রোববার লংগদুতে ৬৫ বছর বয়সী ওই পুরুষ হাতিটি মারা যায়। বন বিভাগ জানায়, হাতিটি অসুস্থ ছিল এবং দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে ক্ষত চিহ্ন নিয়ে দুর্বল অবস্থায় ছিল। রোববার মৃত হাতির পাশে তার সঙ্গীটি দাঁড়িয়ে থাকায় তখন মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আজিজ বলেন, এটি অকল্পনীয় একটি ঘটনা। বন বিভাগের উচিত ছিল মরদেহটি নিয়মিত পাহারা দেওয়া। স্থানীয় বনকর্মীদের অবহেলা ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ার কারণে এটি ঘটেছে। এর ফলে মানুষের কাছে বার্তা যাবে যে, হাতির অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ দামি এবং এগুলো নেওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, সাধারণত মৃত হাতির পাশে সঙ্গী হাতিরা থেকে শোক প্রকাশ করে। রোববারও সঙ্গীটি ছিল, কিন্তু কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে স্থানীয় লোকজন ওই হাতিটিকে তাড়া করছিল, যা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে বন বিভাগের দেখভালের দায়িত্ব ছিল।
ভাসান্যাদম এলাকার এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য জয়নাল বলেন, রোববার রাতে ঝড়–বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে রাত আনুমানিক ২টা বা ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা হাতির মাংস কেটে নিয়ে গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, মৃত হাতিটির কাছ থেকে সঙ্গীটি সরে যাওয়ার সুযোগে রাতের অন্ধকারে কেউ এই কাজ করেছে। রাতে পাহারায় কেউ ছিল কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, জঙ্গল এলাকা হওয়ায় সেখানে রাতে কেউ ছিল না। তবে ভেটেরিনারি সার্জনসহ বন বিভাগের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের পর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।













