পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা : প্রথম দফা ভোটের পর পাল্লাভারির পাল্টাপাল্টি দাবি

| শনিবার , ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ১৫২ আসনে রেকর্ড ভোটহারের পর এখন ‘জয়পরাজয়’ নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গত বৃহস্পতিবার ভোট শেষে রাতে দল দুটির নেতাদের বরাতে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দাবি, তারা সরকার গড়ার কাছাকাছি সংখ্যায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে! দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল নির্বাচন হবে শাসকদলের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। সেই ভোটের সংখ্যা যোগ হওয়ার পর বিজেপি ‘দুরমুশ’ হয়ে যাবে। খবর বিডিনিউজের।

অপরদিকে এনডিটিভি বলছে, নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিজেপি কার্যালয়ে ছিলেন দলটির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান আর উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে তিনি বলেছেন, এবার আমরা নিশ্চিতভাবেই জিতব। যেসব আসনে জেতা কঠিন বলে মনে করা হয়, আমরা সেই আসনগুলোতেও লড়াই করব। এনডিটিভিকে অমিত শাহ বলেন, প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গে গুণ্ডামুক্ত ভোট হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণ্ডারা অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা বড় মাপের কোনো সহিংসতা করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন এবং আধাসামরিক বাহিনী অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে। এই কারণেই ভোটের ফলে বাংলার মানুষের প্রকৃত ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে। মঙ্গলবার রাজ্যের বিধানসভার মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোট হয়। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে নির্বাচন হবে। এতে কে জয়ী হচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত। সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দলের অন্তত ১৪৮ আসনে জিততেই হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে মঙ্গলবার ৯১.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। অমিত শাহর দাবি, এই উচ্চ হারের ভোটদানের অর্থ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের দিন শেষ হয়ে এসেছে। অন্যদিকে আনন্দবাজারের কাছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা কুনাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেন, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিততে চলেছে তৃণমূল। কুণালের ভাষায়, খুব কম হলেও তৃণমূল ১২৫টি আসন জিততে চলেছে। এই সংখ্যা বেড়ে ১৩৫ও হতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকালে কলকাতার বৌবাজার ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মোড়ে এক জনসভায় তৃণমূলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমি যদি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারি, তবে আপনাদের বলি, আমরা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে আছি। এবার প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ, কেউ কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না। যেহেতু অসংখ্য মানুষের নাম নির্মমভাবে বাদ (ভোটার তালিকা সংশোধনীএসআইআর) দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতকে নরকের কুঠুরি বলা মন্তব্য শেয়ার দিলেন ট্রাম্প, নয়া দিল্লির প্রতিবাদ