পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য কৃষ্টি সংস্কৃতির আনন্দময় ও লোকজ উৎসব। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পহেলা বৈশাখ পালন করে। এই উৎসব আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এই একটি মাত্র উৎসব সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে পালন করে। এই উৎসবে থাকে না কোন ভেদাভেদ ধর্মীয় নিয়ম কানুন। সকল ধর্মের লোক এক হয়ে এই উৎসবে মিলিত হয়। অতীতের গ্লানি জরাজীর্ণ শীর্ণ আবর্জনা সব ধুয়ে মুছে নতুনকে বরণের যে উৎসব সেটি হলো নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। নববর্ষ বরণ মূলত চৈত্র মাসের প্রথম থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়। বাড়ির আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাঁথা কম্বল বাসন কোসন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে। ঘরের যাবতীয় আবর্জনা ধুলোবালি পরিষ্কার করে ঘরকে অশুচিমুক্ত করে। মা কাকিদের এসময় দম ফেলার সময় থাকে না। আজ এই কাজ তো কাল ওই কাজ এমনি করে পুরো চৈত্র মাস চলে যায়। তারপর আসে নানা রকম খাবার বানানোর আয়োজন। খইয়ে নাড়ু নারকেলের নাড়ু আটকড়ই চিড়া মুড়ি খই ভাজা। চৈত্র মাসের শেষ দিন নানান রকম সবজি দিয়ে পাঁচন রান্না হয়। যার স্বাদ অতুলনীয়। প্রতিটি ঘরে ঘরে পাঁচন রান্না করা হয়। পাঁচনের মৌ মৌ গন্ধ পুরো পাড়া ছড়িয়ে থাকে। নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। এই দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পূজা প্রার্থনা করে। বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিই। ছোট–বড় সবাই নতুন কাপড় পরিধান করে প্রাণের উৎসবে মেতে উঠে। প্রতিটি ঘরে ঘরে মজাদার রান্না করা হয়। ছোটবেলায় একটা কথা প্রায় শুনতাম বছরের প্রথম দিন ভালো কাটলে নাকি সারা বছর ভালো কাটে। তাই বড়রা যথাসাধ্য চেষ্টা করে বছরের প্রথম দিন নানা রকম আয়োজন করে দিনটি যাতে সুন্দর ও আনন্দময় কাটে। ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে বিভিন্ন রকমের ভর্তার সাথে ইলিশ পান্তা ভাত শুকনো মরিচ থাকে। আরো থাকে পোলাও বিরানি মাংস। খাওয়া দাওয়া বাইরে ঘুরে বেড়ানো পহেলা বৈশাখ যেন আনন্দে রঙিন হয়ে উঠে।
বটের তলায় বৈশাখী মেলা বসে। গৃহিণীরা সারা বছরের সাংসারিক দ্রব্য সামগ্রী এই মেলা থেকে সংগ্রহ করে। ব্যবসায়ীরা এই দিনে শুভ হালখাতা শুরু করে। দোকানে আসা ক্রেতাগণকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে। পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সংস্কৃতি কর্মী গানে কবিতায় ছন্দে আনন্দে নববর্ষকে বরণ করে। এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় বলীখেলা মোরগ লড়াই গরু লড়াই তম্রু বাজি খেলার আয়োজন করে। এসব খেলা দেখতে মেলায় প্রচুর লোকের সমাগম হয়। যেন হাজার বছরে ঐতিহ্য কৃষ্টি সংস্কৃতি একসাথে বাঙালির অন্তরে জেগে উঠে। গ্রামে আর শহরে সবখানেই লোকে লোকারণ্য মুখরিত হয়ে উঠে প্রাণের লোকজ উৎসব পহেলা বৈশাখ।








