কোরবানির গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোরবানির দিন কোরবানির চেয়ে উত্তম আমল আর নেই। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। বিশ্বনবী (স.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।’ সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর এই বাণী থেকে কোরবানির গুরুত্ব সহজেই অনুধাবন করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা নিঃসন্দেহে বোকামি। কোরবানি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো বোঝা নয় বরং এটি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর অসীম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতিবিজড়িত একটি মহান ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলছেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া।’
লোক দেখানো কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরবানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। উত্তম পশু জবাইয়ের মাধ্যমে যেমন আমরা আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করি, তেমনি ইসলামের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতাও আমাদের অন্তরে জাগ্রত করতে হবে। অন্যথায় কোরবানি কেবল উৎসব ও ভোজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই আমাদের উচিত ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং তাকওয়ার সঙ্গে কোরবানি আদায় করা। তবেই পূর্ণতা পাবে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা।












