তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধীদল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারম্যান চেং লি–উন আজ মঙ্গলবার চীনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। চীন যখন তাইওয়ানকে পুনরেকত্রীকরণে রাজি করাতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে এই সফরকে শান্তি মিশন হিসেবে অভিহিত করেছেন লি–উন। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, লি–উনের এর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক চাপ বাড়ছে। খবর বিডিনিউজের।
এক দশকের মধ্যে কেএমটি–এর কোনও নেতার এটিই প্রথম চীন সফর। তবে সফরকালে চেং লি উন–এর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সত্যিই দেখা করবেন কি না, তা বেইজিং এখনও নিশ্চিত করে জানায়নি। চীন এই দ্বীপদেশটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বিরোধীদল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে সরকারের প্রস্তাবিত ৪ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট বর্তমানে আটকে আছে।
যুদ্ধ বনাম শান্তির প্রচারণা : এই সফরকে কেন্দ্র করে তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) এবং বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুদ্ধ ও শান্তির আবহ ফুটিয়ে তুলে পাল্টাপাল্টি প্রচার শুরু করেছে। গত রোববার কেএমটি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে, শান্তিই সমৃদ্ধির একমাত্র ভিত্তি এবং তাইওয়ানের ভবিষ্যতের আশা। ভিডিওটিতে তরুণদের খোলা আকাশের নিচে ও পুলে বসে হাসিমুখে সময় কাটাতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ডিপিপি এক ফেইসবুক পোস্টে পাল্টা আক্রমণ করে বলেছে, কেএমটি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করতে চীনা কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করছে। ডিপিপি প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে। তাইওয়ানের এই প্রতিরক্ষা বাজেট পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানিয়েছে। তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি–উন গত মাসে বিদেশি সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি কখনওই শুধু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়, এর জন্য রাজনৈতিক প্রচেষ্টাও সমানভাবে অপরিহার্য।
সফরে তিনি এমন এক সময়ে চীনে যাচ্ছেন যার এক মাস পরই বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে কৃষি ও বিমানের যন্ত্রাংশ বাণিজ্য নিয়ে চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও তাইওয়ান নিয়ে গভীর উত্তেজনার বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক ফোনালাপে শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে। ওদিকে, গত সপ্তাহে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছিল, বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি–উনের উচিত বেইজিংকে সামরিক হুমকি বন্ধ করতে বলা এবং তাইওয়ানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করতে বলা। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং–তে–কে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে চীন।













