‘ডুমসডে’ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র

| শুক্রবার , ৬ মার্চ, ২০২৬ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটির পরীক্ষা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যখন ষষ্ঠ দিনে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান৩’ (এলএমজি ৩০) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র কি দিন ঘনিয়ে আসার বার্তা দিচ্ছে ইরানকে?-ঘনাচ্ছে সন্দেহ। ‘ডুমসডে’ নামেও পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের যে কোনও জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম। গত মঙ্গলবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময়সূচি অনেক বছর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ হিসাবে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়ায় নয়। দু’টি টেস্টরিএন্ট্রি ভেহিকলের সাহায্যে এই পরীক্ষা হয়। নিরস্ত্র করেই ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়। উৎক্ষেপণের পর কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালিন প্রবাল প্রাচীরের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানে। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে গতবছর নভেম্বরে মিনিটম্যান৩ পরীক্ষা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো আইসিবিএমের মধ্যে একটি হল মিটিনম্যান৩। ১৯৭০এর দশক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে।

কেন মিনিটম্যানকে ‘ডুমসডে ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয় : যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক অস্ত্র হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডুমসডে ক্ষেপণাস্ত্র’। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। তার মানে এটি আঘাম হানতে পারে পৃথিবীর যে কোনও স্থানে। কেবল তাই নয়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে আলাদা আলাদা পারমাণবিক ওয়ারহেড পাঠানো সম্ভব। স্থল থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয় মিনিটম্যান৩। এমনকি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। উৎক্ষেপণের পর নির্ভুলভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি ভিন্ন মহাদেশে থাকা নিশানায় আঘাত করতে পারে। পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কারে রাখা হয়।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের টার্গেটে মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে আঘাত হানতে সক্ষম। সাবমেরিন ও বোমারু বিমান, দুই থেকেই এই মিসাইল উৎক্ষপেণযোগ্য।

মিনিটম্যান পরীক্ষায় ভ্রুকুটি : যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বলছে, পারমাণবিকক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কার্যকারিতা, নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে দেখতেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সামরিক অভিযানের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন অংশ কীভাবে কাজ করবে, তা পরখ করে দেখা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতার উন্নতি ঘটাতে এই ধরনের পরীক্ষা জরুরি।

তবে যে সময় এই অন্যতম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র সেটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গত শনিবার থেকে একযোগে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা আঘাত করছে ইরানও। এই মুহূর্তে যুদ্ধের আঁচে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের উপর আরও জোরাল আক্রমণ করতে প্রস্তত তারা। আরও বড় হামলা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সন্দেহের উদ্রেক করেছে। বাড়ছে উদ্বেগ।

গত বছরের শেষ দিকেই নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পারমাণবিক অস্ত্রের নিরিখে চীন এবং রাশিয়ার থেকে পিছিয়ে থাকতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে সাত দিন ধরে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’
পরবর্তী নিবন্ধপ্রশান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণের পরশ বুলিয়ে দেয় রোজা