প্রশাসন আন্ডারে (আয়ত্ত্বে) আনার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর আরেকটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, এক বছর কাজ করার জন্য ড. ইউনূস ঘোষণা করেছেন ‘শাহজাহান চৌধুরী গার্ডিয়ান অব চিটাগাং’। খবর বাংলানিউজের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে জামায়াতের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কর্মী সম্মেলনে ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমি দুইবারের এমপি, চারবার পার্লামেন্ট নির্বাচন করেছি। ৪২ বছর সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার জনসাধারণকে বুকে নিয়ে আমি বারবার আপনাদের কছে এসেছি। আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন। ১৯৯১ সালে এমপি বানিয়েছেন, ২০০১ সালে নির্বাচিত করেছেন। আজকে সাতকানিয়া–লোহাগাড়া নয়, পুরো চট্টগ্রামে এক বছর ধরে কাজ করার জন্য ড. ইউনূস ঘোষণা করেছেন শাহজাহান চৌধুরী গার্ডিয়ান অব চিটাগাং। চট্টগ্রামের অভিভাবক হচ্ছেন শাহজাহান চৌধুরী।
এদিকে চট্টগ্রামের অভিভাবক ঘোষণা নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, তাকে এরকম কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরকম কিছু হলে আমরা জানার কথা। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অফিস আদেশের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকবে। মৌখিকভাবেও আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।
এ বিষয়ে জানতে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম জোনাল হেড মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এটি অবান্তর কথাবার্তা। এ ধরনের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তাছাড়া দেশ চালাচ্ছে এখন অন্তর্বর্তী সরকার। শাহজাহান চৌধুরী একজন রাজনীতিবিদ। তাকে কেন এই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, যার যার নির্বাচনী এলাকায়, যারা আছে প্রশাসনে যারা আছে, তাদেরকে অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে। প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারকে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষককে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। পুলিশকে আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। ওসি সাহেব আপনার কী প্রোগ্রাম সকাল বেলায় জেনে নেবে, আর আপনাকে প্রোটোকল দেবে। টিএনও (ইউএনও) সাহেব যা উন্নয়ন এসেছে, সমস্ত উন্নয়নের হিসেব যিনি নমিনি (জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী) তার থেকে খুঁজে বের করতে হবে।
এ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছে জামায়াত এবং এ ঘটনায় দলটি তাকে শোকজ নোটিশও দিয়েছে। একই সঙ্গে সাতদিনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।












