নগরীর একটি বাসায় গৃহবধূর ওপর হামলা করতে যাওয়া তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর চান্দা পুকুর পাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার তিন মাদক ব্যবসায়ী হলেন মো. ইফাজ সুলতান, তৌসিফ আহম্মেদ ও সার্জিল চৌধুরী আলভী। তাদের মধ্যে একাধিক মামলার আসামি ইফাজ হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির মুফতি মো. ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনে আক্তার জলি ওরফে জলি সোবহানের প্রথম পক্ষের ছেলে। তিনি বলেন, ইফাজ ও তার মায়ের বিরুদ্ধে আগেও মাদক মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় তারা জেলও খেটেছেন।
গত মঙ্গলবার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাহিদা আক্তার রিটা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাহিদা আক্তার রিটা ও হামলাকারী ইফাজের নানার বাড়ি একই এলাকায়। এই সূত্রে ইফাজ ও তার মায়ের অতীতে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত বেশ কিছু সংবাদের কপি মানুষজনকে দেখিয়ে এসবের প্রতিবাদ জানান রিটার ছোট ভাই সাজ্জাদ হোছাইন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ইফাজ। সেজন্য দুজন সহযোগীকে নিয়ে ইফাজ গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের চান্দা পুকুর পাড় এলাকায় অবস্থিত সাজ্জাদের বোন রিটার বাসায় যান। এসময় রিটা দুই সন্তানকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। তার স্বামী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত মো. জাকেরুল হক কর্মস্থলে ছিলেন। ইফাজ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রিটাকে ধাক্কা দেন। পরে ছুরির ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালংকার, টাকা–পয়সাসহ মালামাল হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ জন্য তারা আলমারি ও ওয়ারড্রব খুলে সোনা ও টাকা পয়সা খুঁজতে থাকেন। এর মধ্যেই কৌশলে রিটা বাথরুমে ঢুকে জাতীয় জরুরি সেবা–৯৯৯ এ ফোন করেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় হাজির হয় পুলিশ। তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেন তারা। এ সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মালামাল হাতিয়ে নেয়ার জন্য হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেন তিন আসামি। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ছুরি ও মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়।













