চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৯১টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৮২টি পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৯৯টি পদ এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ১৮৯টি।
দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মীরসরাই উপজেলায় মোট ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে ২৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী। নিয়ম অনুযায়ী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির জন্য একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই উপজেলায় ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও ৪৫টি প্রাথমিক কিন্ডারগার্টেন, ২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। ৪৫টি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থী সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এছাড়া দুটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০০ জন। সব মিলিয়ে প্রাথমিকে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৯টি ক্লাস্টারের জন্য ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও সব মিলিয়ে বর্তমানে আছেন মাত্র একজন। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত নজরদারিতে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত মা সমাবেশ ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন হতো। সেসব সমাবেশে শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উৎসাহ দিতেন। এছাড়া বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করতেন তারা। কিন্তু এখন গুটি কয়েক বিদ্যালয়ে তদারকি করা হলেও সিংহভাগ বিদ্যালয়েই কোনো তদারকি হয় না।
উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে মীরসরাই সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান ও পরিবেশ। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা আক্তার বলেন, কষ্ট হলেও আমরা চেষ্টা করছি চালিয়ে নিতে। তবে কর্তৃপক্ষ যদি আরও কিছু শ্রেণিকক্ষসহ আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করত, তাহলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব হতো। তিনি আরও জানান, এত সংকটের মধ্যেও তাদের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক মেধাবৃত্তিতে উপজেলায় সেরা স্থান অর্জন করেছে।
কর্মকর্তা সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার কাজের চাপের কথা স্বীকার করে বলেন, ১০ জন শিক্ষা কর্মকর্তার কাজ আমি ও আমার এক সহকারী মিলে সারতে গিয়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করে সন্ধ্যা ও রাত নাগাদ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্কুলগুলোর মনিটরিং ও সঠিক শিক্ষাদান নিয়ে আমাদের ভিজিট করাসহ অন্যান্য শিক্ষামুখী তদারকি যথাযথভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার অগ্রগতি বজায় রাখতে দ্রুত অন্তত কয়েকজন এটিও নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন এবং স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই সব সংকট নিরসন হবে।












