চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানির পর অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের। হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে ফটিকছড়ির পাইন্দং পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ডিভাইডার নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলের মুখে এই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সওজ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের সবচেয়ে ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত ১৪টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রকল্পটির আওতায় মোট ৩,৩৫০ মিটার (৩.৩৫ কিলোমিটার) সড়কে প্রশস্তকরণ ও ডিভাইডারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সড়কের দুই পাশে ১১ ফুট করে মোট ২২ ফুট সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। একই সাথে দুর্ঘটনা রোধে মাঝখানে বসানো হচ্ছে স্থায়ী রোড ডিভাইডার। সওজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনগণের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ১৪টি স্পটের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, পুরো সড়কটি বর্তমানে একটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। ফলে কেবল ১৪টি স্থানে আংশিক কাজ করে এই মহাসড়ককে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা সম্ভব নয়। তাদের স্পষ্ট দাব্তি হাটহাজারী থেকে ফটিকছড়ি পর্যন্ত পুরো সড়কটিকেই জরুরি ভিত্তিতে চার লেনে উন্নীত করে স্থায়ী ডিভাইডারের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে সওজ–এর চট্টগ্রাম উত্তর উপ–বিভাগের প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “মহাসড়কের ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ৩.৩৫ কিলোমিটার (৩,৩৫০ মিটার) সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ডিভাইডার নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এর আওতায় সড়কের উভয় পাশে ১১ ফুট করে মোট ২২ ফুট সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। আমরা আশা রাখি, পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কটুকুর কাজও হয়ে যাবে।” এই কাজের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহারুল ইকবাল লাভলু বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রাম ছিল এই সড়কটি প্রশস্ত করে ডিভাইডার করার। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি এবং খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যদের (এমপি) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে এই আংশিক কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশা রাখি, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুতই পুরো সড়কটি চার লেনে রূপান্তর করা হবে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি স্মরণ করে বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা এই নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। আমরা তখন তাদের আশা দিয়েছিলাম যে তাদের দাবি পূরণ হবে। আজ আমাদের এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় মানুষ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে সড়কটি আরও নিরাপদ হবে।”
সবশেষে এই বিশেষ প্রকল্প নিয়ে চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত এমপি সরোয়ার আলমগীর বলেন, “চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি সড়কটি পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ও ভারতের সীমান্তসহ প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এই আংশিক কাজের মাধ্যমে আমাদের সামান্য আশা পূরণ হয়েছে, তবে আমাদের মূল দাবি হলো পুরো সড়কটি চার লেনে উন্নীত করে স্থায়ী ডিভাইডার বসানো। সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”











