দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে রেণু ফোটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। গত ৩০ এপ্রিল নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। সকাল ১০টার দিকে নমুনা ডিম ছাড়ে। একই দিন দুপুর দেড়টা–দুইটার দিকে ২য় দফা ডিম ছাড়ে এবং রাত দুইটার দিকে পুনরায় ডিম ছাড়ে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এবার পূর্ণিমার প্রথম জো/তিথিতে প্রায় সাড়ে আড়াইশ নৌকায় ৫ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ৬ হাজার কেজি ডিম আহরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হালদা নদীর অংকুরীঘোনা, গড়দুয়ারায় নয়াহাট, সিপাহির ঘাট, পাতাইজ্জ্যার টেক, কাগতিয়ার টেক, সোনাইর মুখ, মাছুয়াঘোনা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট, আমতুয়া কুমারখালির টেক, বারিয়াঘোনা, রামদাশ মুন্সিরহাট, মদুনাঘাট এলাকায় ডিম ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। কয়েকদিন ধরে কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি, নদীতে পাহাড়ি ঢলের প্রকোপ, অপেক্ষাকৃত শীতল পরিবেশ মাছের ডিম ছাড়ার উপযোগী। তাই উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে বৈশাখ মাসের পূর্ণিমার জো/ তিথিতে মাছ ডিম ছেড়েছে। এদিকে হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি ও মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিকে পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া আছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি কুয়া ডিম থেকে রেণু ফোটাতে প্রস্তুত ছিল। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়োঘোনাতে ২৬ এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ পাঁচশোর অধিক ডিম সংগ্রহকারী ডিম ফোটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলম।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নদী থেকে ২০২২ সালে ৬ হাজার কেজি, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৬ কেজি, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬শ ৮০ কেজি এবং ২০২৫ সালে ১৪ হাজার ৬শ ৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ৩০ এপ্রিল প্রথমবার পূর্ণিমার জো/তিথিতে তিন দফায় ৬ হাজার কেজি ডিম আহরণ করা হয়েছে। এবার আড়াইশ নৌকায় পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন। আগামীতে আরো তিনটি জো/তিথি রয়েছে। ১৪ মে থেকে ১৯ মে শুরু হওয়া অমাবস্যার জো/তিথিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে কার্পজাতীয় মা মাছ পুনরায় ডিম ছাড়তে পারে।














