হাম চিকিৎসায় ডাক্তারদের দুই বেলা রাউন্ড দিতে হবে

বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা ওয়ার্ড করার নির্দেশনা

| বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামের উপসর্গ ও হামে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডাক্তারদের দুই বেলা রাউন্ডসহ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে এসব নির্দেশনা প্রতিপালন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, সব সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে আবশ্যিকভাবে হাম ও হামের উপসর্গের রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড অথবা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে। সকল সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে। খবর বিডিনিউজের।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকালবিকাল দুই বেলা রাউন্ড দেবেন। প্রত্যেক ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক/দর্শনার্থী হাসপাতালে অবস্থান করতে পারবেন। ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করবেন। জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা ওয়ার্ড করার নির্দেশনা : হামের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়ার্ড করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও উপসর্গের রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ মিলছে। এ পরিস্থিতিতে নিম্নোক্ত নির্দেশনাবলী প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

. সব বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান আবশ্যিকভাবে হাম ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন ঠিক করবে। ২. বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসা বা ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেবে। ৩. বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন অনুযায়ী, সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এই ১০ শতাংশ শয্যার অর্ধেক শয্যা হাম রোগ ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

. ভর্তি হওয়া রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান বা প্রবেশ করতে পারবেন। ৫. ভর্তি রোগী সম্পর্কিত তথ্য প্রতিদিন এমআইএস ওয়েবসাইটে (http://surveillance.dghs.gov.bd) দিতে হবে। প্রয়োজনে ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ এ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ৬. স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে হাম ও সন্দেহজনক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
পরবর্তী নিবন্ধনাফ নদীতে জেলের জালে ২৫ কেজির কোরাল