সড়কজুড়ে গর্ত ও অবৈধ পার্কিং, যানজটে ভোগান্তি

বাঁশখালীর প্রধান সড়ক

কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী | শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে ভাঙ্গন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সওজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৬ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে মেরামত কাজ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রধান সড়কের প্রায় সব স্থানে ছোট বড় গর্তের যান চলাচলে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ।

বাঁশখালীর এ সরু সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, যানজট এবং দুঘর্টনা যেন নিত্যসঙ্গী। এছাড়া বাঁশখালীতে স্থায়ী কোনো বাস টার্মিনাল না থাকায় পুকুরিয়া থেকে প্রেমবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কটি যেন অলিখিত টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। বাস চালক ও মালিকরা বলেন, আমরা গাড়ি কিনে ও চালিয়ে সরকারকে প্রতিনিয়ত রাজস্ব প্রদান করি। কিন্তু সরকারিভাবে অন্তত একটা টার্মিনালও যদি করে না দেয় তাহলে ব্যক্তি উদ্যোগে করা সম্ভব না।

বাঁশখালীর প্রধান সড়কটি অত্যন্ত অনুন্নত এবং অত্যন্ত সরু। এই সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ ৮টি উপজেলার লাখ লাখ লোক যাতায়াত করে। বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে (মহেশখালীর মাতারবাড়ি প্রকল্প, বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প) যাওয়ার প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কৃষিজ পণ্য, লবণ, চিংড়ি, সমুদ্র থেকে আহরিত মৎস্য সম্পদ, পর্যটন, উৎপাদন ও সরবরাহে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে এ সড়কটি সংস্কারে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সিডিউল অনুসারে বড় করতে হবে। তবে বর্তমানে সড়কজুড়ে যেভাবে গর্ত হয়েছেতা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে দুঘর্টনাসহ নানা ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ জনগণ।

বাঁশখালীর পুকুরিয়া থেকে প্রেমবাজার পর্যন্ত দুপাশের সড়ক সমপ্রসারণ ও সড়কের দুপাশে রাখা মালামালগুলো সরিয়ে নেয়ায় প্রতিনিয়ত দুঘর্টনার পাশাপাশি এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের যানজটের কবলে পড়ে অন্তহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সরু সড়কের কয়েক স্থানে যানজটের কারণে নিদিষ্ট সময়ে কেউ গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। পুকুরিয়া, চৌমহনী, কালীপুর, গুনাগরী খাসমহল, মিয়ারবাজার, চাম্বল বাজার, টাইমবাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে যানজট লেগেই থাকে। সড়কের উপর গাড়ির পার্কিং যানজটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, প্রধান সড়ক যানজটমুক্ত রাখার জন্য প্রতিনিয়ত মালিক ও চালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা দোকানের মালামাল রাস্তার পাশে রাখে তাদের সর্তক করা হয় যাতে করে যানজটমুক্ত থাকে প্রধান সড়কটি। তিনি এ ব্যাপারে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান ও দায়িত্ববোধ যানজট নিরসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব
পরবর্তী নিবন্ধনারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি