কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো চার অকুতোভয় কিশোরকে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সাহসিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করায় তাদের এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই চার সাহসী কিশোর –মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কিশোরদের পুরস্কৃত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন।
গত ২৮ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনা–কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটিতে একই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনাটি চোখে পড়ামাত্রই নদীর পাড়ে থাকা ১৫ বছর বয়সী কিশোর রবিউল্লাহ মুহূর্তের সিদ্ধান্তেই ঝাঁপিয়ে পড়েন উত্তাল নদীতে। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে দ্রুত বাবার ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেন সাইমন। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন আব্দুল্লাহ ও অলিউল্লাহও। নদীর প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে মাত্র ১০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন এই চার কিশোর–তরুণ।
এমন মানবিক কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চার কিশোর। তারা জানান, পুরস্কারের চেয়েও পাঁচজন মানুষকে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারার আনন্দই তাদের কাছে সবচেয়ে বড়। প্রশাসনের এই মূল্যায়ন তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন তাদের এই বীরত্বপূর্ণ কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘এদের সাহসিকতা ও মানবিকতা সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যে কীর্তি দেখিয়েছেন, তা অন্য সবাইকে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।’












