রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে কালবৈশাখীর ছোবলে নৌকাডুবির ঘটনার ১০০ ঘণ্টার বেশি (৪ দিন) পার হয়ে গেলেও নিখোঁজ নববধূ কণিকা দাশের (১৯) কোনো সন্ধান মেলেনি। ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের টানা উদ্ধার তৎপরতার পরও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল রবিবার (৩১ মে) পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কোদালা জেলে পাড়া থেকে চন্দ্রঘোনা মিনার পাড়ায় যাওয়ার পথে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। প্রচণ্ড ঢেউ ও বাতাসের তোড়ে নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান নববধূ কণিকা দাশ। নিখোঁজের চার দিন পার হয়ে যাওয়ায় এখন কর্ণফুলী নদীর রাউজান, বোয়ালখালী ও শহরের মোহনার দিকেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ নববধূর সন্ধানে নদীর পাড়ে স্বজনদের মাঝে চলছে একটানা হৃদয়বিদারক আহাজারি। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো কোদালা ও চন্দ্রঘোনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে নৌকাডুবির পর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫ বছরের কিশোর রবি উল্ল্যাহ নিজের জীবনবাজি রেখে উত্তাল নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে তার সাথে যোগ দেয় বড় ভাই অলি উল্ল্যাহ, বন্ধু শিমুল ও আব্দুল্লাহ। তাদের অসীম সাহসিকতায় নদী থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মুহূর্তে পাঁচটি প্রাণ তারা বাঁচাতে পারলেও নববধূ কণিকাকে উদ্ধার করতে না পারায় রবির কণ্ঠে ঝরে পড়ে আক্ষেপ।
স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গুনিয়ার লালানগরের ওমান ট্র্যাজেডির পর যখন উপজেলায় শোকের মাতম চলছে, তখনি নৌকাডুবির ঘটনা আরেকটি বড় বিপর্যয় ছিল। এতে পাঁচজনের জীবন বাঁচিয়ে স্থানীয় চার কিশোর অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় নদীতে জোয়ারের শেষ দিক থাকায় তীব্র স্রোত ছিল। পরবর্তী সময়ে ভাটার টানে তিনি হয়তো দূরবর্তী কোনো এলাকায় ভেসে গেছেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান বা কোনো তথ্য পেয়ে থাকলে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের (০১৯০১০২১৫৮১) নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।












