সুদানে যুদ্ধের মধ্যেও মিনিটে তিন শিশু জন্ম নিচ্ছে

চরম ঝুঁকির সতর্কতা

| বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ তৃতীয় বছরে পা দিয়েছে। এই সংঘাতের ভয়াবহতার মধ্যে দেশটিতে প্রতি মিনিটে অন্তত তিনটি শিশু এমন পরিবেশে জন্ম নিচ্ছে, যার মুখোমুখি তাদের কখনও হওয়া উচিত নয়। এই শিশুরা চরম মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে আছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। খবর বিডিনিউজের।

মঙ্গলবার সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে। সেই হিসাবে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার শিশু এমন এক পরিস্থিতিতে জন্ম নিচ্ছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দিনে মাত্র এক বেলা খেয়ে বেঁচে আছে।

সুদানে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দিলাদিফ বলেন, শিশুরা ভিড় ঠাসা আশ্রয়শিবিরে, সরঞ্জামহীন বা ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অথবা পলায়নরত পরিবারের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে। সংঘাতের মধ্যেও শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আলবুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালোর মধ্যকার ক্ষমতার লড়াই দেশজুড়ে যুদ্ধে রূপ নেয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ক্রমাগত সহিংসতা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার কারণে সুদানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর ফলে লাখ লাখ মা ও নবজাতক মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার ১২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। ২০২২ সালে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৩, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৫এ।

যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। আর যেসব কেন্দ্র এখনও চালু আছে, সেগুলোতে ওষুধ, কর্মী এবং জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ২০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। গত মার্চে পূর্ব দারফুরের আলদায়েন টিচিং হাসপাতালে ড্রোন হামলায় ১৩টি শিশুসহ অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়, যার ফলে পুরো হাসপাতালটি অকেজো হয়ে পড়ে।

আদবিলাদিফ বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব হামলা মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার পথ স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। তিনি সংকটাপন্ন পরিবারগুলোর কাছে সাহায্য পৌঁছাতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানপন্থি চ্যানেল বন্ধ করে দিল ইউটিউব
পরবর্তী নিবন্ধবীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজিম উদ্দিন