প্রজনন মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ ও ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সকল প্রকার মাছ আহরণের ওপর সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে শুরু হলো মাছ শিকার। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে শুরু হলো শিকার। একই সঙ্গে খুলেছে স্থানীয় বরফকলসমূহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ এবং হ্রদের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ শিকার বন্ধের নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে জেলা প্রশাসন। তবে চলতি বছর হ্রদের পানি দ্রুত কমে আসায় ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ শিকার বন্ধ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে ১ আগস্ট থেকে মাছ শিকার শুরুর কথা থাকলেও এবার ১ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বর্ধিত করায় হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বাড়ল ৩ মাস ১৫ দিনে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়টাতে কাপ্তাই হ্রদের সমগ্র এলাকায় সকল প্রকার মাছ আহরণ, সংরক্ষণ/শুকানো, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে বন্ধ ছিল স্থানীয় বরফকলসমূহ।
এদিকে, সাড়ে ৩ মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হওয়ায় খুশিতে ব্যবসায়ী, জেলে ও বিপণনকেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা। মাছের শুল্কহার আদায় শেষে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির রাঙামাটির প্রধান বিপণণকেন্দ্র ছাড়াও জেলার কাপ্তাই, মারিস্যা এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপকেন্দ্রেও শেষ সকল ধরনের প্রস্তুতি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের উপ–ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম আজাদীকে বলেন, ৩ মাসের বেশি সময় কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা থাকার পর সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর (১১ আগস্ট) মাছ শিকার শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) ভোর সাড়ে ৬টা থেকে মাছ ল্যান্ডিং (অবতরণ) শুরু হবে এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।










